ইসলাম কায়েমের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে হবে : এ টি এম আজহার এমপি

Printed Edition
খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর নগর শাখার সদস্য সম্মেলনে বক্তৃতা করেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি  : নয়া দিগন্ত
খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর নগর শাখার সদস্য সম্মেলনে বক্তৃতা করেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি : নয়া দিগন্ত

খুলনা ব্যুরো

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, পৃথিবীতে ইসলাম কায়েমের ধারা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও ইসলাম কায়েম হবে। তার প্রস্তুতি হিসেবে জামায়াতের জনশক্তিকে ইসলামী বাস্তব অনুসারী হতে হবে।

তিনি বলেন, সংখ্যায় বিপুল হলেও মুসলমানরা বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। ২০০ কোটি মুসলমানের বিপরীতে মাত্র ৪০ লাখ ইসরাইলি ইহুদি বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে। এর অন্যতম কারণ মুসলমানদের মধ্যে ঈমানের শক্তি ও বাস্তব চেতনার ঘাটতি। গতকাল শুক্রবার নগরীর আল ফারুক সোসাইটিতে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো: ইজ্জত উল্লাহ এমপি ও সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আবদুল খালেক এমপি।

সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান। ইসলামের প্রাথমিক যুগের উদাহরণ দিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, মদিনায় মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার সময় মুসলমানদের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। মসজিদে ছিল না আজকের মতো জাঁকজমক, ছিল না দামি কার্পেট বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু তখন পারস্য ও রোমের মতো শক্তিশালী সাম্রাজ্য মুসলমানদের ভয় করত। এখন মুসলমানদের অনেক মসজিদ অত্যাধুনিক, পোশাক-পরিচ্ছদ ও জীবনযাপনে আড়ম্বর রয়েছে; কিন্তু সেই ঈমানি শক্তি নেই।

এ টি এম আজহার বলেন, দলের বিজয় মানেই ব্যক্তির বিজয় নয়। কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ভোট চুরি বা অনৈতিক পদ্ধতিতে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনলেও তাতে তার ব্যক্তিগত মুক্তি হবে না। একজন চোর ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চুরি করে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেও তার চুরি বৈধ হয়ে যায় না। একইভাবে দলের জন্য অন্যায় করলে সেই অন্যায়ের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগকে রিফাইন করে নতুন রূপে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। সরকারের ভেতরের কিছু ব্যক্তি ও দিল্লির সাথে সংশ্লিষ্ট মহল এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে। তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহজে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক কৃতিত্ব নয়। এটি আল্লাহর রহমত এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফল। দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছরের রাজনৈতিক অন্ধকারের পর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। গণ-অভ্যুত্থানে বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, বৈষম্য, দলীয়করণ ও অর্থপাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, বাম, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ যে পরিচয়েই রাজনীতি করা হোক, শেষ পর্যন্ত আদর্শিক অবস্থানই রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শের রাজনীতি চালিয়ে যাবে।