বেগুনি বক

Printed Edition
বেগুনি বক
বেগুনি বক

মো: আবদুস সালিম

বড় আকারের জলচর আবাসিক পাখি ‘বেগুনি বক’। আকারে বড় হলেও শরীরের তুলনায় ওজন বেশ কম। আধা কেজি থেকে শুরু করে প্রায় দেড় কেজি। এ পাখির উচ্চতা প্রায় ৮৫ সেন্টিমিটার। গায়ের রঙ লালচে-বাদামি। পিঠ গাঢ় ধূসর। ঠোঁট বাদামি-হলুদ; সোজা ও শক্তিশালী। চোখ হলুদ। বেগুনি বকের পায়ের সামনের অংশ বাদামি এবং পেছনের অংশ হলুদ। পা ও গলা বেশ লম্বা। এ পাখির ইংরেজি নাম পারপল হেরন (Purple heron)। আর সায়েন্টিফিক নাম Ardea perpurea.

বেগুনি বককে খয়রা কানা, ঝুঁটিকাক, লম্বা গলার বেগুনি বক ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।

এদের ঠোঁট শক্তিশালী হওয়ায় সহজে শিকারে সক্ষম। খাদ্য হিসেবে বেশি পছন্দ ছোট মাছ, ব্যাঙ, ছোট সাপ, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ-জাতীয় প্রাণী ইত্যাদি। এমনকি নিজে পাখি হয়েও অন্য ছোট পাখি ছোঁ মেরে ধরে খায় কাকের মতো করে। বিশেষ করে শিকারের নেশায় এরা নদীর তীর, খাল-বিলের আশপাশে বেশি ঘুরে বেড়ায়। মোট কথা, মিঠা পানির আবাসস্থল বেশি পছন্দ। অনেক সময় খোলামেলা শুকনো জায়গায়ও বিচরণ করতে দেখা যায়। এ পাখি বেশি দেখা যায় ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়াসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও নাতিশীতোষ্ণ আরো কিছু অঞ্চলে। বাংলাদেশে বেশি দেখা যায় সিলেট, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, কাপ্তাইসহ আরো কিছু অঞ্চলে।

প্রজননের সময় এলে এরা দলবদ্ধ হয়ে থাকতে পছন্দ করে। বেগুনি বকেরা উঁচু গাছের ডালে বাসা তৈরি করে শুকনো ঘাস, লতা-পাতা, খড়কুটা ইত্যাদি দিয়ে।

মেয়ে পাখি ৩-৫টি ফ্যাকাসে নীল-সবুজ রঙয়ের ডিম পাড়ে। ২৫-৩০ দিনে ডিম থেকে ছানা বের হয়। ছানাদের দেখাশোনা করে মা-বাবা মিলেমিশে। ছানা উড়তে শিখে প্রায় তিন মাসে। প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন হয় প্রায় এক বছর বয়সে।

অবাক বিষয় হলো, এরা সর্বোচ্চ প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এ কারণে এদের বংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু ধীরে হলেও কমে যাচ্ছে এ পাখি। কমে যাওয়ার প্রধান কারণ জলাশয় কমে যাওয়া, পরিবেশ দূষণ, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য ইত্যাদি।