ভাঙা ঘরে বাঁচার লড়াই

সন্তানদের নিয়ে মনোয়ারা বেগমের অসহায় জীবন

Printed Edition
পটুয়াখালীতে ভাঙা ঘরে সন্তানদের নিয়ে মনোয়ারার মানবেতর জীবনযাপন : নয়া দিগন্ত
পটুয়াখালীতে ভাঙা ঘরে সন্তানদের নিয়ে মনোয়ারার মানবেতর জীবনযাপন : নয়া দিগন্ত

উত্তম গোলদার মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

মির্জাগঞ্জের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের বেতাগী-সুবিদখালী সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘর যেন মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে পরিত্যক্ত কোনো বাড়ি। উপর দিয়ে আলো পড়লেই ভেতরে প্রবেশ করে, বাতাস ঢুকে যায় ফাঁক দিয়ে। বৃষ্টি হলে ছিদ্র দিয়ে পানি টপকে পড়ে, শীতে ঠাণ্ডা বাতাসে কাঁপে ঘরের ভেতর, আর গ্রীষ্মে তাপদাহে ছোট্ট টিনের ঘরটি পরিণত হয় আগুন গরম। এটি বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমের একমাত্র আশ্রয়।

স্বামী ওয়াজেদ শরীফ মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর আগে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম। পাঁচ সন্তান নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন মনোয়ারা। বড় ছেলে বাদশা শরীফ মানসিক ভারসাম্যহীন, কোথায় থাকে, কখন আসে, কিছুই নিশ্চিত নয়। ছোট ছেলে মহিদুল শরীফ শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে ডান পায়ের রগ ছিঁড়ে ফেলেন। যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় পরিস্থিতি এখন খারাপের দিকে। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় এক লাখ টাকা। কিন্তু অভাবী সংসারে সেই অর্থ জোগাড় করা তো দূরের কথা, ওষুধ কেনার টাকাই জোটে না।

সরেজমিন দেখা যায়, ঘরের টিনের চালা মরিচায় ক্ষয়ে গেছে বহু আগেই। টিনের বড় বড় ছিদ্র দিয়ে সূর্যের আলো ঢুকে পুরো ঘর আলোকিত থাকে। ভাঙা বেড়া, কাদামাটির মেঝে আর জরাজীর্ণ টিনের দেয়ালের মধ্যে পরিবারটি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। কথা হয় মনোয়ারা বেগম ও তার অসুস্থ ছেলে মহিদুলের সাথে।

মনোয়ারা জানান, স্বামীকে হারানোর পর তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্টে। তারাও নিজের সংসারেই কষ্টে থাকে। বড় ছেলে মানসিক রোগী, কখনো থাকে, কখনো থাকে না। ছোট ছেলে কাজ করে সংসার চালাত, তার পা নষ্ট হওয়ায় এখন সব থেমে গেছে। নানা রোগে ভুগছি। বয়স্ক ভাতা পাই না নিয়মিত। কেউ সাহায্য করলে ঘরটা ঠিক করতে পারতাম। মহিদুল বলেন, কাজ করতে গিয়ে পায়ের রগ কেটে যায়। ভুল চিকিৎসার জন্য এখন হাঁটতেই পারি না। বাধ্য হয়ে অটো রিকশার ব্যাটারি বিক্রি করেছি মায়ের ও নিজের চিকিৎসার জন্য। এখন ধার-দেনা করে চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ফিরোজ আলম জানান, মনোয়ারা বেগমের পরিবারসহ এখানে আরেকটি পরিবারও রয়েছে, যাদের সাহায্য প্রয়োজন। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অফিস থেকে সহায়তা দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করলে পরিবারের সামগ্রিক সহায়তার বিষয়েও বিবেচনা করা হবে।