নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের ভোট গণনায় পরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণের সময় পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও গণনার সময় কৌশলে ফলাফল পাল্টে দেয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, এবার সহিংসতামুক্ত নির্বাচন হয়েছে এবং মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহ ছিল। কিন্তু গণনার সময় যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, সেটাকে কোনোভাবেই রোধ করা যায়নি। এটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে, যা আমাদের কাছে স্পষ্ট, যার কারণে গণমতের প্রকৃত প্রতিফলন এই নির্বাচনে ঘটেনি।
ঢাকা-১৩ আসনের এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকেই স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অনেক রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা, টেম্পারিং ও ওভার রাইটিং করা হয়েছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, আগে একটি অঙ্ক ছিল, পরে অন্য একটি অঙ্ক বসানো হয়েছে। বিশেষ একটি মার্কার ভোট বাড়ানোর জন্যই এই কাটাছেঁড়া করা হয়েছে।
মামুনুল হক আরো অভিযোগ করেন যে, তাকে বিকেল সাড়ে ৪টার পর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি, যেখানে অনিয়মের স্পষ্ট তথ্য ছিল তাদের কাছে।
নির্বাচনী ব্যালট পেপারের ত্রুটি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে মামুনুল হক বলেন, ব্যালট পেপারের দ্বিতীয় প্যারার সর্বশেষ রো খালি ছিল। ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়ে মনে করেছেন ওই খালি জায়গাটি উপরের প্রার্থীর জন্য এবং সেখানে সিল মেরেছেন। তিনি বলেন, এভাবে আমাদের ৪৩৮১ টি ভোট বাতিল করা হয়েছে। অনেক আসনে এমন ব্যালট থাকলেও সেখানে ভোট বাতিল করা হয়নি, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে করা হয়েছে।
নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ পাননি দাবি করে এই নেতা বলেন, কেন্দ্রগুলোতে তৎক্ষণাৎ অভিযোগ করার সুযোগ না পাওয়ায় পরে নির্বাচন কমিশনে এসে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।



