নিজস্ব প্রতিবেদক
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংবিধানিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতির কারণে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার যে চরম শিক্ষা হয়েছে তা এখন ইতিহাসের অংশ। সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা লাগাতারভাবে চর্চা করবে বিএনপি সরকার। দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে অবাধ নির্বাচনের যাত্রা অব্যাহত রাখা হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে আওয়ামী শাসন আমলের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে আরো পোস্টমর্টেম করতে হবে। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের নিবন্ধ নিয়ে প্রকাশিত ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ প্রকাশনাটি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে অ্যান্টিভাইরাস হিসেবে কাজ করবে। যারা ইতিহাস চর্চা করেন, গবেষণা করেন তাদের কাছে এই বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার সিরডাপ কনফারেন্স সেন্টারে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের নিবন্ধগুলোর সঙ্কলন ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ওই গ্রন্থের নিবন্ধগুলো বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে রক্তে ভেজা দিন বদলের সনদ, গ্রেফতার আর ডাণ্ডাবেড়ির রাজনীতি, সিটি নির্বাচন : দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রায়, বিএনপি ভুল করেনি, সভ্য সমাজে হত্যা ও গুম কাম্য নয়, বিপন্ন মানবতা ও জনগণের প্রত্যাশা, ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রসহ ৩৮টি নিবন্ধ স্থান পেয়েছে।
ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ প্রকাশনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, শেখ হাসিনা মনে করতেন তার জীবদ্দশায় আর কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন তিনিই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ধরনের বয়ান সেই সময়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের বলতে শোনা গেছে। কিন্তু জনগণই যে সব ক্ষমতার উৎস তা প্রমাণিত হলো জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক, ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চিফ মডারেটর অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন ও ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির পরিচালক ড. এস এম মোর্শেদ।
সাংবাদিকদেরও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে : তথ্যমন্ত্রী
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই একটি সুস্থ সমাজগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রোববার (২২ মার্চ) সকালে বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাব আয়োজিত ঈদপুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্যে থাকেন, তেমনি সাংবাদিকদেরও তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।’ তিনি মনে করেন, সাংবাদিকতা পেশার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একটি উপজেলায় একাধিক প্রেস ক্লাব থাকলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই একটি উপজেলা প্রেস ক্লাব থাকাই সমীচীন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কে কোন মানের সাংবাদিক তা নির্ধারণে নেতাদের দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো: শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এফ এম নাজমুল রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্যসচিব মোল্লা বশির আহাম্মেদ পান্না, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা ও মো: সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি মো: মাসুম হাওলাদার প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
দীর্ঘ সময়ের প্রতিকূলতার পর ঈদুল ফিতরের মতো ধর্মীয় উৎসবে একসাথে মিলিত হওয়ার সুযোগকে দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অর্জিত এই আনন্দঘন ও সহনশীল পরিবেশ ধরে রাখা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব, যাতে ভবিষ্যতেও সবাই মিলেমিশে উৎসব উদযাপন করতে পারে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে বরিশালের গৌরনদী সরকারি কলেজ জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বছর পর আমরা এমন একটি পরিবেশ পেয়েছি, যেখানে আনন্দ ভাগাভাগি করা সম্ভব হচ্ছে। এই পরিবেশকে ধরে রেখে আরো দীর্ঘস্থায়ী করতে হবে।’ যারা ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এ জন্য আমরা দায়ী নই; বরং ব্যক্তিগত আচরণের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ তবে ভবিষ্যতে সব মত ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রায় দুই দশকের প্রতিকূল পরিস্থিতির পর জনগণের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এবারই প্রথম কোনো বড় ধর্মীয় উৎসবে সবার সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের যাত্রা শুরুর এই সময়ে ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করতে পারা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।’ পাশাপাশি দেশের কল্যাণে সরকার যেন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে জন্য ঈদের মুনাজাতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।
ঈদের নামাজ শেষে তথ্যমন্ত্রী উপস্থিত মুসল্লি, দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং নিজ নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-১ আসনের সর্বস্তরের জনগণসহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।



