কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ৪৩

Printed Edition

আলজাজিরা

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আইএসের সাথে সম্পৃক্ত একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৪৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার আঞ্চলিক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জুলস শিকুদি এনগোঙ্গো জানান, গত বুধবার ইতুরি প্রদেশের মামবাসা অঞ্চলের বাফওয়াকোয়ায় এই নৃশংসতা চালানো হয়।

বিদ্রোহীদের হামলায় ‘৪৩ জন দেশপ্রেমিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৪৪টি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে’ বলে তিনি উল্লেখ করেন। মূলত উগান্ডাভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘অ্যালাইড ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’ (এডিএফ) এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মামবাসা অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রশাসক ব্যাপটিস্ট মুন্যাপান্ডি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রথাগত কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান আলিমাসি জানিয়েছেন, হামলাকারীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে।

অনেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং বেশ কিছু মানুষকে তাদের নিজেদের ঘরে আটকে রেখে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে দু’জন নিরপরাধ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বিদ্রোহীরা অপহরণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতর্কিত হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কঙ্গোর সেনাবাহিনী বর্তমানে দেশটির পূর্বাঞ্চলে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে লড়াই করছে, যার ফলে এডিএফের মতো গোষ্ঠীগুলোকে পুরোপুরি দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহীদের দাপট গত বছর থেকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা গোমাসহ বেশ কয়েকটি প্রধান শহর দখল করে নিয়েছিল।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জুলস শিকুদি এনগোঙ্গো দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন যে, এডিএফ বিদ্রোহীরা সরাসরি সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ এড়িয়ে চলে এবং প্রতিশোধ হিসেবে সাধারণ জনগণের ওপর হামলা চালায়। মূলত সরকারের শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতেই তারা বারবার নিরীহ মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

২০২১ সাল থেকে কঙ্গো ও উগান্ডা যৌথভাবে এডিএফের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করলেও সম্প্রতি ইতুরি এবং প্রতিবেশী উত্তর কিভু প্রদেশে গোষ্ঠীটির তৎপরতা আরো বেড়েছে।

গবেষণা সংস্থা ‘ইনসিকিউরিটি ইনসাইট’-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া মোট সহিংসতার প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী এই এডিএফ।