হোয়াইটওয়াশেও আলোচনায় রাজা

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

এজবাস্টনে রোমাঞ্চকর চতুর্থ দিনের শেষে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ড। বড় জয়ের পথে শেষ মুহূর্তে অবশ্য কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে জো রুটের দলকে। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রান, দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রান এবং তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটের বড় পরাজয়ে ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ হলো পাকিস্তানের। দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পরই ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয় দলে। সাত খেলোয়াড়কে দেশে পাঠানো হয়। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ৪৫৩ রান করে ৩২০ রানের বিশাল লিড নেয় ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচটি দুই দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটাররা দারুণ প্রতিরোধ গড়ে ৪৪৯ রান করে ইংল্যান্ডের সামনে ১৩০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়।

পাকিস্তানের লড়াইয়ের মূল নায়ক ছিলেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা ২১ বছর বয়সী বোলার রাজাউল্লাহ। প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানে চার উইকেট নেয়া রাজা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে পাকিস্তানের ত্রাতার ভূমিকায় নামেন। মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৯টি ছক্কা হাঁকান তিনি। এতে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ইনিংসে নয় ছক্কা হাঁকানোর কীর্তিতে বেন স্টোকসের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন রাজা।

রাজাউল্লাহর সাথে শান মাসুদের ৯৫, বাবর আজমের ৭৬ এবং আজান আওয়াইসের ৫৯ রানের ইনিংসে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে ইংল্যান্ডের জয় নিয়েই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

চতুর্থ দিনের সকালে শুরুতেই দুই ইংলিশ ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। প্রথম বলেই বেন ডাকেট ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর এমিলিও গে এলবিডব্লিউ হলে মাত্র দুই রানেই দুই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। এরপর মোহাম্মদ আলীর বলে বোল্ড হলেও নো-বলের কারণে বেঁচে যান জো রুটও। সেখানেই শেষ পাকিস্তান। আর কোনো বিপদ হতে দেননি জর্ডান কক্স ও রুট। কক্স ৫৯ এবং রুট অপরাজিত ৬২ রান করে ১২৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এই জয়ে অধিনায়ক হিসেবে রুটের প্রত্যাবর্তনও সফল হলো। বেন স্টোকস জুনে অবসর নেয়ার পর নেতৃত্বে ফেরা রুট ইংল্যান্ডকে টানা তিন টেস্টে জয় এনে দিলেন।

তবে সিরিজে ৩-০ জয় পেলেও নতুন কোচ স্টিফেন প্লেমিংয়ের জন্য কিছু প্রশ্ন রেখে গেছে ইংল্যান্ড। বিশেষ করে ওপেনিং জুটি ডাকেট ও গে’র পারফরম্যান্স উদ্বেগের কারণ। অন্য দিকে পাকিস্তান সঙ্কটময় সফরে অন্তত রাজউল্লাহর মতো সম্ভাবনাময় এক তারকার সন্ধান পেয়েছে। ইংল্যান্ডের সামনে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সফরের কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর পাকিস্তানের জন্য রাজাউল্লাহর এই বিস্ফোরক অভিষেক হতে পারে নতুন পথচলার আশার আলো।