দীর্ঘ ১৮ মাস ধৈর্যের সাথে দায়িত্ব পালন করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ায় মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল ঢাকা সেনানিবাসে কর্মকর্তাদের নিয়ে দরবারে বসেন সেনাপ্রধান। এ সময় তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য সব প্রশংসা এবং কৃতিত্বের দাবিদার অধীনস্থ সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায় থেকে পাওয়া ধন্যবাদ, তিনি সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেন।
তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরে পুলিশ সুসংগঠিত বা আত্মবিশ্বাসী হলেই সেনাবাহিনী দ্রুত প্রস্থান করবে বা ব্যারাকে ফেরত আসবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা এক লাখ থেকে কমিয়ে ৩০-৩৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে এবং অন্যান্য কাজে মনোনিবেশ করবে।
আল্লাহর দরবার শুকরিয়া আদায় করে শুরু: বেলা ১১টায় সূরা বাকারাহর ১৫৩ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে সেনাপ্রধান বলেন, মহান রাব্বুল আলামিন ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন। দীর্ঘ ১৮ মাস ধৈর্যের সাথে দায়িত্ব পালন করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া।
গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম : দীর্ঘ ১৮ মাস দেশ একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর সব সদস্য পরিবার-পরিজনকে বাসায় রেখে রাত-দিন একাকার করে দেশমাতৃকায় উৎসর্গ করেছে। সেনাবাহিনীকে নিয়ে দেশ-বিদেশে বসে বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা-গুজব ছড়িয়ে ভাবমর্যাদা ক্ষুণেœর চেষ্টা করা হয়েছে। মহান রাব্বুল আলামিন ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন। এর ফল আল্লাহ সুনামের সাথে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মিথ্যা-গুজব এবং বিভিন্ন প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে অনেকবার আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু চেইন অব কমান্ডের প্রতি বিশ্বাস আমাদেরকে বিচলিত করতে পারেনি। যারা এসব করেছে তারাই এখন সুর পাল্টে সেনাবাহিনীর প্রশংসা করছে। যা বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনী কতটা রোবাস্ট ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে, তাই প্রমাণ করে।
সেনাবাহিনীর মর্যাদা অনেক বেড়েছে : দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাতথ্য, গুজব ও প্রোপাগান্ডা তৈরি হয়। যা দেশ ও জাতির কাছে সেনাবাহিনীর জন্য ছিল একটা কঠিন ধৈর্যের পরীক্ষা। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে কাজ করায় দেশ ও জাতির কাছে সেনাবাহিনীর মর্যাদা অনেক বেড়ে গিয়েছে, যা দৃশ্যমান। ভবিষ্যতে চেইন অব কমান্ড মেনে চললে দেশের মানুষ সেনাবাহিনীর মর্যাদাকে আরো দৃঢ়ভাবে মূল্যায়ন করবে। দেশের মানুষ সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রেখেছে। সেনাবাহিনীও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।
ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী : চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রায় সবগুলো থানা আক্রান্ত হয়। পাশাপাশি পুলিশ শূন্য হয়ে পড়ে দেশ। আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ধর্ষণ প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি এবং মব ভায়োলেন্স তথা গণপিটুনি দিয়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা তীব্র আকারে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নেয়।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরে, পুলিশ সুসংগঠিত বা আত্মবিশ্বাসী হলেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফেরত আসবে। তবে তার আগে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সংখ্যা এক লাখ থেকে কমিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজারে নেমে আসবে এবং অন্যান্য কাজে মনোনিবেশ করবে।
সেনাবাহিনীর প্রশংসা : দেশের ক্রান্তিকাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা অবনতি ও সার্বিক পরিস্থিতি এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য। সেনাবাহিনী প্রধান নির্বাচনের আগে বলেছিলেন এবারের নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় কোনো বড় ধরনের নাশকতা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে বিশেষ করে সরকারের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর প্রশংসা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায় থেকে ধন্যবাদ পেয়েছি। এই প্রশংসা সেনাবাহিনীর সব সদস্যের।
সেনাপ্রধান বলেন, সুস্থ ও সৎ জীবনযাপন করতে হবে। যা দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করবে। সমাজে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বেড়ে গেছে, যা সেনাবাহিনীকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়াও আত্মহত্যা বেড়ে গিয়েছে, ধর্মীয় অনুশাসন না মানার কারণে। সবাইকে মোটিভেট হতে হবে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে যা জানমালের ক্ষতি করছে। দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারায় মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।



