আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট
দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাটগুলো ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ১৪টি সীমান্ত হাট দ্রুত চালু করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তৎপরতা চলছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত আরো ছয়টি হাট চালুর বিষয়েও কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৪ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালু, স্থলবন্দর সচল এবং স্থলপথে সুতা আমদানির প্রতিবন্ধকতা দূর করাসহ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর সীমান্ত হাট পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, হাটগুলো চালুর বিষয়ে ভারতের গোয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন এবং সিলেটে ভারতের সহকারী হাইকমিশন পর্যায়ে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে শূন্যরেখায় দুই দেশের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব হাটে পণ্য কেনাবেচা করেন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সীমান্ত এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালের ২২ অক্টোবর দুই দেশের সরকার সীমান্ত হাট স্থাপনসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর পর ২০১১ সালের ২৩ জুলাই কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী সীমান্তে প্রথম সীমান্ত হাট চালু হয়।
পর্যায়ক্রমে সুনামগঞ্জের ডলুরা, ফেনীর ছাগলনাইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও শেরপুরের নাকুগাঁওসহ বিভিন্ন সীমান্তে হাট চালু করা হয়।
পরবর্তী সময়ে আরো ছয়টি সীমান্ত হাট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সীমান্ত হাটে সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত সবজি, খাদ্যশস্য, মাছ, গোশত, ডিম, মিষ্টি, পোশাক ও বিভিন্ন স্থানীয় পণ্য বিক্রির সুযোগ রয়েছে। উভয় দেশের নির্ধারিত সংখ্যক বিক্রেতা এসব হাটে অংশ নেন। সাধারণত সীমান্তের উভয় পাশে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী মানুষ পণ্য বিক্রি করতে পারেন। স্থানীয় মুদ্রা কিংবা নির্ধারিত নিয়মে পণ্য বিনিময়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। আসামের শিলচরের দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গের সহকারী বার্তা সম্পাদক মিলন উদ্দিন লস্কর বলেন, সীমান্ত হাট স্থানীয় মানুষের বাণিজ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি শ্রী চন্দন শাহ বলেন, এতে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগও সৃষ্টি হবে।



