ম্যাচ শেষে হঠাৎ করেই কেপ ভার্দের ড্রেসিং রুমে টিভি ক্যামেরার উপস্থিতি। সেখানে ক্যামেরায় ধরা পড়ল এই উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা উল্লাস। এর কারণ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসেই নকআউটে খেলার যোগ্যতা। আর তা কোনো জয় ছাড়াই। বেশ কিছু রেকর্ডের জন্ম দিয়েই তারা সেরা ৩২-এ কোয়ালিফাই করা দল। পরশু রাতে হিউস্টনের মাঠে সৌদি আরবের সাথে গোলশূন্য ড্র করেই কেপ ভার্দের ইতিহাস গড়া ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে তাদের এই বিশাল অর্জনটি সম্ভব হয়েছে মেক্সিকোর গুয়াদালহারা মাঠে স্পেনের কাছে উরুগুয়ের হারের ফলে। ৩ পয়েন্ট নিয়েই নকআউটে উঠেছে কেপ ভার্দে। আর ২টি করে পয়েন্ট নিয়ে বাদ পড়তে হলো উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে। নকআউটে যেতে উরুগুয়ের ড্র এবং সৌদি আরবের জয় দরকার ছিল গ্রুপের এই শেষ ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে ড্র করলেও ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে স্পেন।
নকআউট পর্বে ৪ জুলাই কেপ ভার্দে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার। এখন প্রশ্ন, এবার আর্জেন্টিনার কি হবে। প্রশ্নটা হচ্ছে এ কারণেই, আটলান্টিক মহাসাগরের এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি গ্রুপ পর্বে দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে রুখে দিয়েছে। প্রথমে স্পেনকে (০-০) এবং পরে উরুগুয়েকে (২-২)। এরপর তৃতীয় ম্যাচে পরশু রাতে জিততে দেয়নি সাবেক এশিয়া চ্যাম্পিয়ন সৌদি আরবকে। ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের স্বাগতিকদের সাথে এবার গোলশূন্য কেপ ভার্দের। আর এতেই কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হলে নতুন এক সাফল্য। প্রথম আসরেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। এখন যদি তারা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেয় তবে তা হবে এ আসরের সবচেয়ে বড় চমক বা অঘটন।
প্রথম খেলতে এসেই নকআউটে যাওয়াটা নতুন কোনো ঘটনা নয় বিশ্বকাপে। ২০১০ সালে স্লোভাকিয়া বিশ্বকাপের ডেবু আসরেই নকআউটে উঠেছিল। এবার সেই পথ অনুসরণ করল কেপ ভার্দেও। মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার লোক বসতির দেশ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়াও একটি ঘটনা।
২০১০ বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ না জিতে অর্থাৎ সব ম্যাচে ড্র করেও নকআউট পর্বে যেতে পারেনি নিউজিলান্ড। সেই তুলনায় কতটা ভাগ্যবান এই কেপ ভার্দে। তারাও তিন ম্যাচের একটিতেও হারেনি। কিন্তু পারেনি জিততেও।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সপ্তম দেশ এই কেপ ভার্দে, যারা গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ না জিতেও নকআউটে কোয়ালিফাই করেছে। নকআউট পর্বে তারা মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। ২০০৬ সালটি ছিল ঘানার জন্য প্রথম বিশ্বকাপ। সেবার তারা প্রথম দল হিসেবে নকআউটে মুখোমুখি হয়েছিল আগের বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের।
কেপ ভার্দে হলো তৃতীয় আফ্রিকান দেশ যারা গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচেই অপরাজিত। এর আগে ১৯৯০ সালে ক্যামেরুন এবং ২০০২ সালে সেনেগালের এই কৃতিত্ব ছিল।
কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভজিনহা এখন বিশ্বখ্যাত গোলরক্ষক পিটার শিলটন এবং দিনো জফের পাশেই চলে এলেন। আর তা হলো বিশ্বকাপে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে ক্লিন শিটে ম্যাচ খেলা।
ছোট দেশ। লোক সংখ্যা কম। তাই কেপ ভার্দেতে বাইরের দেশের লিগে খেলার মতো পর্যাপ্ত ফুটবলারও নেই তাদের। ২৫ জনের মধ্য ১৪ জন খেলেন ইউরোপের লিগে। কারণ তাদের জন্ম হয়েছে ইউরোপের মাটিতে। এদের মধ্যে ৬ জনই নেদারল্যান্ডস পোর্ট সিটিতে।
বিশ্বকাপে তাদের আগমনটা নতুন হলেও আফ্রিকা মহাদেশ থেকে তারা যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বকাপে খেলছে। বাছাই পর্বে ক্যামেরুনকে হারিয়েই তাদের বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে আসা। এখন তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। লিওনেল মেসির সাথে ম্যাচে খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।
দলটির এই পর্যায়ে আসার পেছনে কোচ ভাউভিস্তার অবদানই বেশি। ২০২০ সালে দায়িত্ব নিয়ে দলকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসেন। এই দলের পক্ষে যে ভালো কিছু করা সম্ভব, তা ২০২৩ সালের আফ্রিকান ন্যাশন্স কাপে ঘানাকে হারিয়ে আর মিসরের সাথে ড্র করে প্রমাণ দিয়েছিল।



