সিঙ্গেল স্ক্রিনে শাকিবের রাজত্ব মাল্টিপ্লেক্সে তারুণ্যের

সাকিবুল হাসান
Printed Edition
সিঙ্গেল স্ক্রিনে শাকিবের রাজত্ব মাল্টিপ্লেক্সে তারুণ্যের
সিঙ্গেল স্ক্রিনে শাকিবের রাজত্ব মাল্টিপ্লেক্সে তারুণ্যের

গত ২১ মার্চ উদযাপিত পবিত্র ঈদুল ফিতর ঢালিউডের ঝিমিয়ে পড়া প্রাণশক্তিতে নতুন এক জোয়ার নিয়ে এসেছে। বছরের দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহগুলো দর্শক-খরায় ভুগলেও ঈদের সাত দিনে পাল্টে গেছে চিরচেনা সেই ধূসর চিত্র। উৎসবের আমেজ, হাউজফুল শোর উন্মাদনা আর দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর এখন দেশের প্রতিটি সিনেমা হল। এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচটি সিনেমা ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’ কেন্দ্র করে রুপালি পর্দায় বইছে সুবাতাস। তবে এই উৎসবের গাণিতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে একটি বিশেষ মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে; যেখানে একদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে শাকিব খানের একক রাজত্ব কায়েম হয়েছে, অন্যদিকে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে চলছে সিয়াম আহমেদ ও আফরান নিশোর মতো তরুণ তুর্কিদের জয়জয়কার।

সারা দেশের সিনেমা হলগুলোর মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে শাকিব খানের ‘প্রিন্স : ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাব বজায় রেখেছে। গ্যাংস্টার কালচারের গল্প আর ‘তামিল স্টাইল’ মেকিংয়ের কারণে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে শাকিব-উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মুক্তির আগে প্রচারণা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ এবং শুরুর দিকে সার্ভার জটিলতায় শো দেরিতে শুরু হওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকলেও, পর্দায় শাকিবের উপস্থিতি সব বিতর্ককে ম্লান করে দিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছে, ম্যাস-অডিয়েন্সের কাছে শাকিব খান এখনো সবচেয়ে বড় আস্থার নাম। এমনকি স্টার সিনেপ্লেক্সের মতো বড় চেইনগুলোতে চতুর্থ দিন থেকে শো শুরু হতেই প্রতিটি প্রদর্শনী দ্রুত হাউসফুল হয়ে উঠেছে। শাকিবের এই দাপট প্রমাণ করছে যে, দেশী সিনেমার হারানো জৌলুস ফেরাতে তার জনপ্রিয়তা এখনো মূল চাবিকাঠি।

অন্যদিকে, আধুনিক রুচির দর্শকদের কেন্দ্রবিন্দু মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে চলছে তারুণ্যের দাপট। সেখানে শাকিব খানের পর এবারের ঈদের সবচেয়ে আলোচিত নাম সিয়াম আহমেদ। ‘বরবাদ’ ইউনিভার্সের নতুন সংযোজন ‘রাক্ষস’ সিনেমায় সিয়াম স্রেফ অভিনয়ই করেননি, বরং পুরো পর্দা শাসন করেছেন। রোমান্স, গান আর দুর্ধর্ষ অ্যাকশনে তাকে পাওয়া গেছে ‘পিওর ম্যাসি’ অবতারে, যা তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে টেনেছে। একইভাবে আফরান নিশো তার ‘দম’ সিনেমার মাধ্যমে মাল্টিপ্লেক্স দর্শকদের কাছে এক নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন। কাজাখস্তানের দুর্গম ও শৈল্পিক লোকেশনে নির্মিত এই সারভাইভাল ড্রামাটি ভিজ্যুয়াল ও আবেগের দিক থেকে দর্শকদের নতুন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নিশোর পরিমিত অভিনয় আর ভিন্নধর্মী গল্প মাল্টিপ্লেক্সের দর্শকদের হলমুখী করতে বাধ্য করেছে।

এছাড়া চার নারী অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে নির্মিত ‘প্রেশার কুকার’ এবং একঝাঁক তারকার সমন্বয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার গল্প ও নির্মাণশৈলী প্রেক্ষাগৃহে ভিন্ন স্বাদের দর্শক সমাগম ঘটিয়েছে। প্রতিটি সিনেমার গান ও মেকিংয়ে যে বৈচিত্র্য দেখা গেছে, তা দুই ভিন্ন মঞ্চ সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্সের লড়াইকে আরো জমজমাট করে তুলেছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, শাকিব খানের মাস-অ্যাপিল যেমন মফস্বল ও শহরের সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোকে সচল রেখেছে, তেমনি সিয়াম ও নিশোর কাজগুলো মাল্টিপ্লেক্সের পরিমন্ডলে বাংলা সিনেমার বাজারকে সমৃদ্ধ করেছে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ঢালিউডের জন্য এক ইতিবাচক ইঙ্গিত, যা দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ঢাকাই সিনেমাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।