কাওসার আজম
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ভোটার সংখ্যার হিসাবে ফলাফল আগেই নিশ্চিত থাকলেও গতকাল সংসদ কে আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি পদের ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) ড. অলি আহমদ। তবে তিনি সংসদ সদস্য না হওয়ায় নিজে ভোট দিতে পারেননি।
ভোট শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ব্যালট বাক্সগুলো নির্ধারিত নিয়মে খোলেন। সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যালট গণনা শুরু হয়। সিইসির নেতৃত্বে ভোট গণনা করা হয়। গণনায় সময় লেগেছে মাত্র ১৮ মিনিট। গণনা শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে এই নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।
সিইসি জানান, মোট ভোটার ৩৪৯ জন। মোট প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩৪৩। ছয়জন অনুপস্থিত ছিলেন বা ভোট প্রদান করেননি।
ফলাফল অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল। বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় ভোট দিতে পারেননি। অনুপস্থিতদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ভোট দিতে আসেননি।
বিরোধী দলের নেতার সাথে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির প্রথম কোলাকুলি : রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বিজয়ী ঘোষণার সাথে সাথে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা মুহুর্মুহু করতালি ও টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ফুল দিয়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিও এ সময় সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতারা সামনের দিকে এগিয়ে এলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের আসন ছেড়ে সামনে এগিয়ে যান। প্রথমে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার সাথে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিরোধী দলের উপনেতাসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সাথে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানও নিজের আসন ছেড়ে অধিবেশন করে মাঝখানে চলে যান। সেখানে তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতার সাথেও কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের নিয়মিত অধিবেশন না থাকায় সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কইে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। অধিবেশন করে মাঝে তিন পাশে তিনটি টেবিলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হয়। ১৫ মিনিট আগে থেকেই সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কে প্রবেশ করতে শুরু করেন। বেলা ১টা ৫৬ মিনিটে দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন কে প্রবেশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশন কে প্রবেশ করলে উপস্থিত সবাই তাকে স্বাগত জানান।
নির্ধারিত সময় বেলা ২টায় কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে অধিবেশন কে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে নিয়ে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স পরীা করেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। তারা ফাঁকা ব্যালট বাক্স সংসদ সদস্যদের প্রদর্শন করেন। অধিবেশনের শুরুতে নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটদানের নিয়ম ও প্রক্রিয়া সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। তবে স্বাগত বক্তব্য দেয়ার সময় শুরুতে মাইক বিভ্রাট দেখা দেয়। সিইসি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ব্যালট গ্রহণ, ব্যালটে ভোট প্রদান এবং ব্যালট বাক্সে জমা দেয়ার নিয়মও বুঝিয়ে দেন।
সিইসির বক্তব্য শেষে বেলা ২টা ১১ মিনিটে সংসদ কে প্রবেশ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের জন্য সংসদ করে মাঝামাঝি আলাদা চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে বসেই তারা ভোট দেন।
প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং পরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ভোট দেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ভোট দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তার সাথে করমর্দন করেন। ভোট শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানের সাথে করমর্দন করেন এবং সংসদ সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ভোট দেয়া শেষে অধিবেশন ক ত্যাগ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
পরে ভোট দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের ভোট দেয়ার সময় সংসদ সদস্যরা করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। বেলা ২টা ১৯ মিনিটে ভোট দেন বিরোধীদলীয় নেতা। এরপর সংসদ সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে ভোট দিতে থাকেন। বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়।
ভোট শুরুর পর ভিড় এড়াতে পর্যায়ক্রমে সংসদ সদস্যদের ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রথমে সংসদ সদস্যের কাছে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশ দেয়া হয়। সেখানে তাকে নিজের পূর্ণনাম লিখে স্বার করেন। এরপর ব্যালটের মূল অংশে থাকা দুই প্রার্থীর নামের মধ্য থেকে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে ভোট দেন। মূল ব্যালটেও সংসদ সদস্যকে নিজের পূর্ণনাম লিখে স্বার করতে হয়। পরে ভাঁজ করা ব্যালট পেপার নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দেন তারা।
ভোট দেননি ছয়জন : বিএনপির তিনজন হলেন- মির্জা আব্বাস, মোস্তফা কামাল পাশা ও ওসমান ফারুক।
খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান (সিলেট-৫) ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আবুল হাসান ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত হলেও সম্প্রতি তার দল এই জোট থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তই মুখ্য : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটদানের েেত্র সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আগেই জানিয়েছিলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন না। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন। বিরোধী দলের সদস্যরাও নিজ নিজ দলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেছেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেয়ার সুযোগ ছিল।
সরাসরি সম্প্রচার : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভোট শুরুর আগে থেকেই সংসদ ভবনের কার্যক্রম সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুলের ভোট দেয়ার দৃশ্য দেখানো হয়। ভোটগ্রহণের পুরো তিন ঘণ্টা সরাসরি সম্প্রচার না হলেও প্রক্রিয়ার রেকর্ড সংরণ করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্স খোলা, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার অংশও সম্প্রচারের ব্যবস্থা ছিল।
৩৫ বছর পর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা : ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেয়ায় দীর্ঘদিনের সেই ধারা ভাঙে। ফলে ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
বিরোধী জোটের রাজনৈতিক বার্তা : ড. অলি আহমদের পাওয়া ৮৮ ভোট মূলত জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদীয় শক্তির কাছাকাছি। এই প্রার্থিতা জয়ের জন্য নয়-বরং বিরোধী জোটের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। একই সাথে একসময় বিএনপির ঘনিষ্ঠ নেতা ও জিয়াউর রহমানের সহচর অলি আহমদকে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর মধ্য দিয়ে বিরোধী জোট একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ফলাফল অনেকটা নিশ্চিত থাকার পর আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি। এবার অলি আহমদের প্রার্থিতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটের লড়াই হলো।
আজ শপথ : নির্বাচনে জয়ী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার বঙ্গভবনে শপথ নেবেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কারণ বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ অবস্থায় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ার সাথে সাথেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদ সদস্যপদ (ঠাকুরগাঁও-১) শূন্য হবে। একই সাথে তার মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও শেষ হবে। নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্বের অধ্যায়।
রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাষ্ট্রপতি : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু পূর্ব পাকিস্তান আমলে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির রাজনীতিতে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন মির্জা ফখরুল। তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর ওই দুই পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।
তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার পর ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় মির্জা ফখরুল বিএনপির অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ সময়ের নানা আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি দলটির অবস্থান তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন।



