নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত অভিযানে নেমেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকালে রাজধানীর সাইন্সল্যাব ও সিটি কলেজ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় এবং ফুটপাথ দখলমুক্তকরণে ডিএসসিসির সব বিভাগের অংশগ্রহণে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম।
অভিযান পরিচালনাকালে গণমাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রশাসক বলেন, কেবল নগর ভবনে বসে থেকে ঢাকা দক্ষিণের মতো বিশাল এলাকা কার্যকরভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়। সে কারণেই আমরা অঞ্চলভিত্তিক গণশুনানি চালু করেছি। সরাসরি এলাকায় গিয়ে নাগরিকদের সমস্যার কথা শুনেছি ও পরামর্শ নিয়েছি এবং সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, আজ থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন আমি ডিএসসিসির যেকোনো এলাকায় হঠাৎ পরিদর্শনে যাবো। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব, সড়কবাতি ও প্রকৌশলসহ সব সেবার মান যাচাই করা হবে। সেবাদানে কোনো বিভাগের বিন্দুমাত্র গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাগরিক দায়িত্বের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, নাগরিকদের অবহেলায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেললে বা পানি জমিয়ে এডিস মশার লার্ভা সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর জরিমানা করা হবে।
অভিযানকালে প্রশাসক ফুটপাথ, বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় ট্রেড লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয় এবং ফুটপাথে অবৈধভাবে বসানো ভ্রাম্যমাণ দোকান বাজেয়াপ্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়। সমন্বিত অভিযানের পাশাপাশি ডিএসসিসির তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযানে নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় অ ঐড়ংংধরহ ইঁরষফবৎ-কে এক লাখ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড) করা হয়। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের দায়ে ‘রসুই’ রেস্তোরাঁকে ১০ হাজার টাকা এবং ফুটপাথে অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য ধানমন্ডি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।



