আল-আকসায় ইহুদিদের পশু কোরবানির রেকর্ড সংখ্যক চেষ্টা

Printed Edition

আলজাজিরা

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদিদের পাসওভার উৎসব চলাকালে পশু কোরবানির জন্য অনুপ্রবেশের রেকর্ড সংখ্যক চেষ্টা চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। ১৯৬৭ সালে ইসরাইলের আল-আকসা দখলের পর থেকে এ বছরই সবচেয়ে বেশি এ ধরনের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যা পবিত্র এই স্থানের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপরে জেরুসালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, গত ৪০ দিন ধরে আল-আকসা ও চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার বন্ধ রাখার সুযোগে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। তবে বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর আল-আকসা আবার সাধারণ মুসল্লিদের জন্য খুলে দেয়া হয়। এর আগে ইসরাইলি কর্তৃপ ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রোপটে ‘নিরাপত্তা’ ও ‘জরুরি অবস্থা’র অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ রেখেছিল। মসজিদের প্রাঙ্গণ জনশূন্য থাকার সুযোগ নিয়ে কট্টরপন্থী ইহুদি গোষ্ঠীগুলো সেখানে পশু কোরবানির জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। অন্তত দু’বার বসতি স্থাপনকারীরা তাদের কোরবানির পশু সাধারণত ছাগল বা ভেড়া নিয়ে ওল্ড সিটির সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে সম হয়েছিল। ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ১ এপ্রিল এই ধর্মীয় আচার পালনের চেষ্টাকালে পুলিশ অন্তত ১৪ জন ইহুদিকে আটক করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বসতি স্থাপনকারীরা এমনকি ছোট শিশুদের সাথে নিয়ে ছাগলছানা কোলে করে ওল্ড সিটির অলিগলি দিয়ে আল-আকসার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পথে ইসরাইলি চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাময়িকভাবে বাধা প্রদান করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি পুলিশের এই ধরপাকড় বা বাধা দেয়ার বিষয়টি কেবল লোকদেখানো। জেরুসালেমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সুহাইল খালিলিয়েহ আলজাজিরাকে বলেন, আল-আকসায় কোরবানির এই চেষ্টা কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং এটি একটি ‘রাজনৈতিক ও ঔপনিবেশিক হাতিয়ার’। তিনি পুলিশের এ ভূমিকাটিকে ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক মহলের ােভ প্রশমনের একটি কৌশল মাত্র। আদতে রাষ্ট্র এবং এসব উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো মিলে আল-আকসার বর্তমান পরিস্থিতি বদলে দেয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

ঐতিহাসিক ও আইনি নিয়ম অনুযায়ী, অমুসলিমরা নির্দিষ্ট সময়ে আল-আকসা পরিদর্শন করতে পারলেও সেখানে কোনো প্রকার প্রার্থনা বা ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবে না। জর্দান পরিচালিত ওয়াকফ বিভাগই এই পবিত্র স্থানের একমাত্র বৈধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপ। কিন্তু কট্টরপন্থী ইসরাইলি মন্ত্রীদের মদদে বর্তমানে সেখানে ইহুদি প্রার্থনা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা প্রচলিত অর্থোডক্স ইহুদি শিারও বিরোধী। সুহাইল খালিলিয়েহ আরো সতর্ক করে বলেন, বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো এখন তাদের প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছে। এআইর মাধ্যমে তারা আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি পরিবারগুলোর উৎসব ও পশু কোরবানির ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি ইসরাইলি সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই উগ্র ধারণাকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি কৌশল।

জেরুসালেমের এই সঙ্কটজনক অবস্থায় আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে কেবল নিন্দা না জানিয়ে আরো কার্যকর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা আশঙ্কা করছেন, হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের মতো আল-আকসাকেও ধাপে ধাপে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে ইসরাইল। দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে জুমার নামাজ আদায় করতে না পারা ফিলিস্তিনিরা এখন চেকপোস্টগুলোতে বিােভের মাধ্যমে এই অবরুদ্ধ অবস্থা ভাঙার চেষ্টা করছেন।