রাজধানীর চকবাজারে আগুন, অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর চকবাজারে আবারো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে চকবাজারে খাজা মার্কেটের আশিক টাওয়ার নামে একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ছয় ইউনিট কাজ করে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় বেলা সোয়া ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকাটি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে আমরা আগুনের সংবাদ পাই। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই লালবাগ ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথম রেসপন্স বাহিনী রওনা হয় এবং দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরবর্তীতে সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন থেকে আরো চারটি ইউনিট এসে অভিযানে যোগ দেয়। আট তলাবিশিষ্ট ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বেলা ৩টা ১৪ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ডাম্পিং বা আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চালিয়ে যান।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের লালবাগ স্টেশন থেকে দ্রুত দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে যায়। তবে পুরান ঢাকার এই এলাকাটি অত্যন্ত যানজটপূর্ণ, ফলে আমাদের গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা এবং প্রচুর ধোঁয়া দেখে পরবর্তী সময়ে ফায়ার সার্ভিসের সদরদফতর থেকে আরো চারটি এবং সিদ্দিকবাজার স্টেশন থেকে আরো চারটি ইউনিট আমাদের সাথে যোগ দেয়।

আটতলা ওই ভবনে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল, যার প্রস্থ মাত্র দুই ফিট। এই সরু সিঁড়ি দিয়ে আমাদের কর্মীদের বিদিং অ্যাপারেটাস পরে ভেতরে ঢোকা ও কাজ করা ছিল অত্যন্ত দুঃসাধ্য। ভবনের ভেতরে প্রতিটি গোডাউনের শার্টার তালাবদ্ধ ছিল। আমাদের ফায়ারফাইটারদের এই তালাগুলো কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়েছে। গোডাউনগুলোতে প্লাস্টিক, ছাতা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মালামাল ঠাসা ছিল, যার ফলে প্রচণ্ড ধোঁয়া সৃষ্টি হয় এবং আগুন নেভাতে অনেক সময় লাগে। এলাকার অত্যধিক ভিড় এবং রাস্তাঘাট পরিষ্কার না থাকায় আমাদের গাড়ি চলাচলে সমস্যা হয়েছে।

প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। ফায়ার সার্ভিসের সঠিক ও দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে আগুন পাশের আশিক টাওয়ার বা খাজা টাওয়ারের মতো পাইকারি মার্কেটগুলোতে ছড়াতে পারেনি। বর্তমানে আমাদের ডাম্পিং কার্যক্রম এবং মালামাল সরানোর কাজ চলছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।