ফার্নেস অয়েলে দাম কমল, অপরিবর্তিত ডিজেল-পেট্রল

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম আবারো কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসের প্রভাব দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত করে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১০৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম কমেছে ৮ টাকা ৭১ পয়সা। নতুন মূল্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে সরকার আগস্ট মাসের জন্য ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আগস্টেও প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকায় বিক্রি হবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য ছাড় মিললেও পরিবহন, কৃষি ও সাধারণ ভোক্তারা আপাতত জ্বালানির দামে কোনো স্বস্তি পাচ্ছেন না।

গতকাল বৃহস্পতিবার জারি করা বিইআরসির এক আদেশে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের ভাষ্য, বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তন বিবেচনায় প্রতি মাসে ফার্নেস অয়েলের মূল্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি চলতি বছরের মধ্যে ফার্নেস অয়েলের দ্বিতীয় দফা মূল্যহ্রাস। এর আগে গত ৩০ জুন বিইআরসি প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করেছিল, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। তারও আগে এক দফায় প্রতি লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা দাম বাড়ানো হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে গত দুই মাসে ফার্নেস অয়েলের দাম মোট ১৩ টাকা ১৫ পয়সা কমল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো গণশুনানির মাধ্যমে ফার্নেস অয়েলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিইআরসি। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসেই মূল্য সমন্বয়ের নীতি অনুসরণ করছে কমিশন। এর ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশীয় বাজারেও তার প্রতিফলন ঘটছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয় কমাতে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্যুৎকেন্দ্র ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। জ্বালানির মূল্য কমলে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় কমবে, যার ফলে সরকারের ভর্তুকির চাপও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে এই সুবিধা সরাসরি বিদ্যুতের খুচরা ট্যারিফে প্রতিফলিত হবে কি না, সে বিষয়ে বিইআরসির আদেশে কোনো নির্দেশনা নেই। অন্য দিকে, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আগস্ট মাসেও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের বর্তমান মূল্য বহাল থাকবে। সিনিয়র সহকারী সচিব মো: এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ২৭ জুলাইয়ের সুপারিশ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা। জুন ও জুলাই মাসেও একই মূল্যহার বহাল ছিল। ফলে টানা তৃতীয় মাসের মতো এসব জ্বালানির দামে কোনো পরিবর্তন আনেনি সরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের মূল্য নির্ধারণে শুধু আন্তর্জাতিক বাজার নয়, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয় এবং বিপিসির আর্থিক অবস্থাও বিবেচনায় নেয়া হয়। এসব সূচকে বড় ধরনের পরিবর্তন না হওয়ায় আগস্ট মাসে মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফার্নেস অয়েলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ খাতের জন্য ইতিবাচক হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল পরিবহন ও কৃষিতে ব্যবহৃত ডিজেলের দামেও কিছুটা সমন্বয় আসবে। কারণ ডিজেলের দাম কমলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সরকার আপাতত সেই পথে না গিয়ে বিদ্যমান মূল্যহারই বহাল রেখেছে। সরকার প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা, আমদানি ব্যয় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করছে।