ক্ষমা চেয়ে টিকে গেলেন ইনফান্তিানো

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে সৃষ্ট সঙ্কটের মধ্যে ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে তিনি পদত্যাগ করছেন না; বরং মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নির্বাহীদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় সভাপতি পদে বহাল থাকছেন তিনি।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার আফ্রিকা কার্যালয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক ডেকেছিলেন ইনফান্তিনো নিজেই। বৈঠক শেষে ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, ব্যবস্থাপনা বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সম্প্রতি ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই)-এর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেন ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি যথাযথ আলোচনা ছাড়াই এগিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ফিফা।

বৈঠকের পর ইনফান্তিনো ও ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে সহসভাপতি, কাউন্সিল সদস্য এবং ২১১টি সদস্য দেশের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা স্বীকার করেন, প্রক্রিয়াগত ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে এই ক্ষমা প্রার্থনায় সন্তুষ্ট নয় ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সংস্থাটি আগেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ওয়েলস ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর পুনর্র্নিবাচনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ইংল্যান্ডও একই পথে হাঁটতে পারে বলে জানা গেছে।

এ দিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ইনফান্তিনোর প্রতি নিজের আস্থা হারানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। সাবেক পর্তুগিজ তারকা ও ফিফা সভাপতি পদপ্রার্থী লুইস ফিগো সরাসরি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, ফুটবলের স্বার্থে এখনই সরে দাঁড়ানো উচিত তার।

তবে ফিফার ভেতরে এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন ইনফান্তিনো। এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ, যেমন মিসর, মরক্কো, নাইজার, মৌরিতানিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং ফিলিপাইন তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন অটুট রয়েছে।

২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। টানা চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হতে হলে ইনফান্তিনোকে ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোট পেতে হবে। তবে ইউরোপের বিরোধিতা এবং চলমান বিতর্ক তার পুনর্র্নিবাচনের পথ কতটা কঠিন করে তোলে, সেটিই এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।