ক্রীড়া প্রতিবেদক, নিউ ইর্য়ক থেকে
বিশ্বকাপ ফুটবলে সব সময়ই কিছু অঘটনের জন্ম দেয়। তেমনই এক অঘটন ছিল ২০০২ জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে। সেবার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আসর শুরু করা ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল সেনেগাল। লক্ষণীয় বিষয় হলো সেই ম্যাচের পর গত ২৪ বছরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির বিপক্ষে আর কোনো ম্যাচই খেলেনি ফরাসীরা। দুই যুগ পর সেই বিশ্বকাপেই দেখা দুই দেশের। প্রশ্ন ছিল এবার কি ফ্রান্স সেই হারের বদলা নিতে পারবে। নাকি সেনেগালিজদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড থাকবে তাদের সাবেক উপনিবেশ ফ্রান্সের বিপক্ষে। নিউ জার্সির ম্যাট লাইফ স্টেডিয়ামে অবশ্য সেনেগালকে থিতু হতে দেয়নি দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তাদের ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফেবারিট হিসেবেই রেখেছে ফ্রান্স। গোল শূন্য প্রথমার্ধ শেষে বিরতির পর চার গোলের এই ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এতে কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল দিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া রিয়াল মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার জানান দিলেন এবারো তিনি জিততে চান গোল্ডেন বুট।
‘আই’ গ্রুপের এই ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন ৮০,৫৪৫ জন দর্শক। এই দর্শকদের বেশির ভাগই ফরাসি হলেও তারা কিন্তু ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়ার দর্শকদের মতো প্রাণবন্ত নয়। বরং সেনেগালের যে কয়েক হাজার দর্শক এসেছিলেন তারাই বরং মাতিয়ে রাখে স্টেডিয়াম। ঢাক ঢোল আর বাদ্যযন্ত্রে উজ্জীবিত ছিলেন তারা। যদিও তাদের মাঠ ছড়তে হয়েছে হতাশায়।
বিশ্ব ফুটবলে দারুণ ছন্দে ফ্রান্স। রাশিয়া বিশ্বকাপ জেতা দলটি কাতার বিশ্বকাপের রানার্সআপ। দলটির বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাই স্পট লাইটটা ছিল তার ওপরই। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে আজেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এরপর টাইব্রেকারেও গোল। ম্যাট লাইফ স্টেডিয়ামে তিনিই যে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেবেন তা বুঝাই যাচ্ছিল। তবে সেনেগালের গোলরক্ষক মেন্ডির বাধায় সুবিধা করতে পারছিলেন না তিনি। সাথে অন্য ফরাসীরাও।
নিজ যোগ্যতায় মেন্ডি বারবার হতাশ করছিলেন ফরাসীদের। অন্য দিকে সেনেগালও কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করার চেষ্টা করছিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দারুন সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ তারা।
ছোট দলগুলো ভুল করবেই বড় দলের বিপক্ষে। তেমনই একটি ভুল ৬৬ মিনিটে করে বসে সেনেগাল ডিফেন্স লাইন। ফলে থ্রু থেকে বল পেয়ে চলন্ত বলেই ডান পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন এমবাপ্পে। পিছিয়ে পড়ার পরপরই সেনেগাল সমতা এনেছিল। কিন্তু অফসাইডে তা বাতিল। ৮২ মিনেটে ফ্রান্স ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্ডলি বারকোলার গোলে।
সেনেগাল কিন্তু এরপরও খেলা ছাড়েনি। চেষ্টা করে ব্যবধান কমানোর। এরই ফলে ৯৫ মিনিটে ইব্রাহিম এমবায়ে ডান দিক থেকে ঢুকে পরাস্ত করেন ফরাসী কিপারকে। ৮ মিনিট ইনজুরি টাইমের শেষ ৩ মিনিট লড়াই করার জন্য এই গোল ছিল সেনেগালের জন্য প্রেরণা। কিন্তু গোলরক্ষক মেন্ডির ভুলে যোগ করা সময়ের ৯৬ মিনিটে গোল হজমে সব শেষ। বক্সের বাইরে থেকে এমবাপ্পের নেয়া শটে পরাস্ত তিনি। ফলে ২০০২ সালের কোয়াটার ফাইনালে খেলা দলটিকে এবার ১-৩ এ হারে বিশ্বকাপ শুরু করতে হলো।
২ গোল দিয়ে জার্মানির মিরোস্লাব ক্লোজে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির চেয়ে ২ গোল দূরে এমবাপ্পে। তার বিশ্বকাপে গোল ১৪টি। আর ক্লোজে ও মেসির গোল ১৬টি।



