নুরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম
দেশের চায়ের বাজারে অস্থিরতা থামছে না। ধারাবাহিকভাবে নিলামে চা পাতার দর বাড়ছে। বর্তমানে গত মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা বেশি মূল্যে চলতি মৌসুমের নিলামে বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাগানে উৎপাদিত চা পাতা। ফলে দেশের সব শ্রেণীর মানুষের অতি প্রয়োজনীয় এই পণ্যটি যেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম চট্টগ্রাম চা নিলামের মধ্য দিয়ে ২০২৬-২৭ চা নিলাম বর্ষের কার্যক্রম শুরু হয়। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা নিলামে চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই বর্ধিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছিল দেশে উৎপাদিত চা পাতা। তবে মধ্যে কিছুটা নিম্নমুখী হলেও এখন তা আবার ধারাবাহিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী। চা পাতার আন্তর্জাতিক নিলাম বাজার সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমের টানা পাঁচটি নিলামে চা পাতার দাম বেড়েই চলেছে।
সূত্র জানিয়েছে, চা মৌসুমের ১৩তম নিলামে ২০২৪-২৫ মৌসুমে গড়ে প্রতি কেজি চায়ের দাম ছিল ২০৪ টাকা ২৪ পয়সা, পরের বছর ২০২৫-২৬ মৌসুমে একই নিলামে দাম ছিল ২৩৬ টাকা ২৬ পয়সা এবং চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের ১৩তম নিলামে গড় দাম ছিল ২৮৪ টাকা ৮৫ পয়সা প্রতি কেজি। মাত্র দুই বছরে কেজিতে গড়ে ৮০ টাকা বেড়েছে প্রতি কেজি চা পাতার দাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার মৌসুমের ১৪তম চট্টগ্রাম চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। লিফ (দানাদার) এবং ডাস্ট (গুঁড়ো) উভয় ধরনের চা পাতার দাম ছিল ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির। সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের চট্টগ্রাম চা নিলামে ২৬ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৯ কেজি চা নিলামে উঠে। এর মধ্যে লিফ (দানাদার) চা পাতা ছিল ২১ লাখ ২৬ হাজার ৩৯ কেজি এবং ডাস্ট (গুঁড়ো) চা পাতা ছিল চার লাখ ৯৮ হাজার ৮৫০ কেজি।
সূত্র জানায়, লিফের মধ্যে মোটা দানার ব্রোকেন প্রজাতির ভালো চা পাতার দর ছিল প্রতি কেজি ২৯৮ থেকে ৩০৫ টাকা। এর আগের নিলামের তুলনায় কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া এক ক্যাটাগরির বিএলএফ (নন গার্ডেন, ক্ষুদ্রায়তন উৎপাদনকারীদের চা) চা পাতা গত নিলামে বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৭৪ টাকা হতে ২৯০ টাকা পর্যন্ত। যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১২-১৩ টাকা বেশি।
এ ছাড়া ভালো জাতের ফেনিংস (ছোট দানা) লিফ কেজিপ্রতি অফার পড়েছে ২৯৮ থেকে ৩০৮ টাকা। পরিষ্কার এবং মিহি উভয় ধরনের ফেনিংস চা পাতার দাম কেজি প্রতি পাঁচ-ছয় টাকা বেড়েছে। বিএলএফ ফেনিংসের বাজার চাহিদা বেশ ভালো থাকার পাশাপাশি কেজিতে ৯ টাকা দাম বেড়েছে বলেও সুত্র জানায়। ভাল লিকারের গুঁড়ো চা পাতার বাজার চাহিদা ব্যাপক ছিল এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট গুঁড়ো চা পাতার দর কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কিছু গুঁড়ো চা বাজার থেকে প্রত্যাহার হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। নিলামে দেশী ব্লেন্ডার প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ সক্রিয় ছিল। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদেরও নিলামে সক্রিয় দেখা গেছে জানিয়ে সূত্র জানায়, অতিমূল্যের কারণে খুচরা ক্রেতারা বেশি সুবিধা করতে পারেননি।
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে দেশে ৯৪.৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ১.৬৪ মিলিয়ন কেজি চা বিদেশে রফতানি হয়। চলতি বছরের মে পর্যন্ত ১৮.১৪ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে বলেও সূত্র জানায়। ইতালি, জাপান, সৌদি আরব, লেবানন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী চা রফতানি হয় বলেও সুত্র জানায়।



