নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে কুপিয়ে পা বিচ্ছন্ন করে দেয় চাচার। এরপর মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাতিল করিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ভাতিজাকে। ওই সময়ে পুনরায় কুপিয়ে হাতের আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় পা বিচ্ছিন্ন করা সেই চাচার। বর্তমানে জেলে থাকলেও বাইরে থাকা সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সবাইকে শেষ করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন হত্যার শিকার ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম।
তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের কোলা ইউনিয়নের পূর্ব কোলাগ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিক মোল্লা। তার স্ত্রী রওশন আরা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তাদের ছেলে বিদ্যুৎ মোল্লা ইউপি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। ৫ আগস্টের পর জুলাই হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মের আসামি হয়ে জেলে যায় সিদ্দিক মোল্লা। কয়েক মাস জেলে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিহত ইলিয়াস মোল্লার চাচা ইসহাক মোল্লার ওপর হামলা চালিয়ে তার একটি পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর কয়েক মাস পর মালয়েশিয়া থেকে ছুটিতে দেশে ফিরে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন ইলিয়াস। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।
১৯ জুন পঙ্গু চাচাকে হুইল চেয়ারে করে স্থানীয় কোলা অটো স্ট্যান্ডের কাদিরের হোটেলের সামনে গেলে সেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় সেই সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিদ্যুৎ মোল্লা ও বিপ্লব মোল্লাসহ তার বাহিনীর সদস্যরা। তারা রাস্তার পাশে ফেলে ইলিয়াসকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে।
লিপি বেগম বলেন, গুরুতর অবস্থায় আমার স্বামী ও চাচা শ্বশুরকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ইলিয়াসকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেয়া হলে ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এই ঘটনায় পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করলে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দেন। কিন্তু এক মাসের মাথায় আসামি রওশন আরা জামিনে বেরিয়ে তার লোকদের দিয়ে ইলিয়াসের পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি মামলা না তুললে আগের মতো একই কায়দায় পরিবারে অন্যদেরও মেরে ফেলার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিহতের পরিবার। হত্যায় জড়িতদের যথাযথ বিচার চেয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
সিরাজদিখান থানার ওসি মো: আলাউদ্দিন জানান, আমি নতুন এসেছি। মামলাগুলো বুঝে নেয়ার পর বিষয়টি দেখব। যা হবে আইনানুগ ব্যবস্থাই হবে। হুমকির বিষয়ে অভিযোগ করলে ব্যস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, জামিন দেয়া না দেয়া আদালতের ইখতিয়ার।



