পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চলতি মৌসুমে (২০২৫) লক্ষ্যমাত্রা ১০৩ মিলিয়ন কেজির বিপরীতে অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড খরা উপেক্ষা করে গত ১০ মাসে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৭৫.৫৩৪ মিলিয়ন কেজি। একই কারণে গত মৌসুমে (২০২৪) একই সময়ে গত মৌসুমে ১০৮ মিলিয়ন কেজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০ মাসে উৎপাদন হয়েছিল ৭৬.৬৮৬ মিলিয়ন কেজি এবং মৌসুমে অর্থাৎ ১২ মাসে ৯৩.০৪২ মিলিয়ন কেজি; যা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১১ মিলিয়ন কেজি কম। চলতি মৌসুমের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের উৎপাদন যোগ হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ দিকে ২০২৩ (মৌসুমে) ১০২ মিলিয়ন কেজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০২.৯২ মিলিয়ন কেজি উৎপাদন হয়।
জানা গেছে, প্রতি মৌসুমের জানুয়ারি থেকে টানা মে মাস পর্যন্ত অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড খরায় ওই পাঁচ মাসে চা বাগানগুলোতে উৎপাদনে ধস নামে; এ কারণে চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কখনো পূরণ হয় আবার কখনো পূরণ হয় না।
চলতি মৌসুমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে জানুযারি মাসে মাত্র ০০.৩০৯ মিলিয়ন কেজি, ফেব্রুয়ারিতে ০০.৩০ মিলিয়ন কেজি, মার্চে ১.৩৩৫ মিলিয়ন কেজি, এপ্রিলে ২.২৫৩ মিলিয়ন কেজি, মে মাসে ৮.৬৪৮ মিলিয়ন কেজি, জুন মাসে ৯.৮২৫ মিলিয়ন কেজি, জুলাই মাসে ১৩.৪৮৯ মিলিয়ন কেজি, আগস্ট মাসে ১৩.৬০১ মিলিয়ন কেজি, সেপ্টেম্বর মাসে ১১.৪২২ মিলিয়ন কেজি এবং অক্টোবর মাসে উৎপাদন হয়েছে ১৮.৬২৬ মিলিয়ন কেজি।
চা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট নিবন্ধনকৃত ১৬৮টি টি এস্টেট ও চা বাগান রয়েছে এতে সর্বমোট দুই লাখ ৭৯ হাজার ৫০৬.৮৮ একর বাগানে চা উৎপাদন হয়ে আসছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে চট্টগ্রামের ২২টি চা বাগানে চলতি মৌসুমে ১১.২০০ মিলিয়ন কেজির বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৮.১৬৫ মিলিয়ন কেজি। গত মৌসুমে (২০২৪) এ সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৯.২৭৫ মিলিয়ন কেজি। গত মৌসুমে চট্টগ্রামের ২২ বাগানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১১ মিলিয়ন কেজির বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১১.২৬ মিলিয়ন কেজি। চট্টগ্রাম বিটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, প্রচণ্ড খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে উৎপাদন কমছে। তিনি বলে তাপ বা খরাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করা গেলে দেমে চায়ে উৎপাদন ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।



