খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
পাহাড়ে সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন পিসিজেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানায় সংগঠনটি।
মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায়।
লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপির জেলার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো: আবদুল মজিদ বলেন, পিসিজেএসএস, ইউপিডিএফ, কেএনএফের মতো আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন, স্বার্থান্বেষী মহল ও প্রভাবশালী চক্র একপক্ষীয় ও তথ্য প্রচার করে প্রকৃত নিরাপত্তাহীনতার চিত্র আড়ালের চেষ্টা করছে। সরকার, সেনাবাহিনী ও বাঙালি জনগোষ্ঠিবিরোধী অপতথ্য প্রচার করে ‘জুম্মল্যা’- নামে একটি পৃথক প্রদেশ এবং রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
বক্তব্যে এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তার নিয়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়, গত ছয় মাসে তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা, ৪৭টি অপহরণ, ১৬টি হত্যাকাণ্ড, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ৩৪টি সংঘর্ষ এবং ১৪ জন নারীঘটিত অপহরণ ও নির্যাতনসহ প্রতারণার শিকার হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গত এক বছরে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়। সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এ সময়ে দেড় হাজারের বেশি চাঁদাবাজি করেছে বলে অভিযোগ করেন আবদুল মজিদ। এ ছাড়া ভুমি দখলের অভিযোগ রয়েছে চারটি। খাত ভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগে বলা হয়, কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ লাখ, ওষুধ কোম্পানি থেকে পাঁচ লাখ, পরিবেশক কোম্পানিগুলো থেকে দেড় লাখ, যানবাহন থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়েছে। সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে। তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের জেলা সভাপতি জালাল আহমেদ, ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, পিসিএনপির জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেন, এরশাদ হোসেন, রবিউল হোসেনসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



