২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে যে মুখোশ আড়াল করে রেখেছিল, তা ভেঙে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফিলিস্তিনে দখলদার শক্তি হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি ইসরাইলকে এখন ক্রমেই একটি অস্থিতিশীল ও প্রভাব বিস্তারকারী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরব দেশগুলোর মধ্যে এ উপলব্ধি জোরালো হচ্ছে যে, ইসরাইল শুধু ফিলিস্তিন নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নিজের পক্ষে টানতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
গত এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মনোযোগ ইসরাইল থেকে সরে গিয়ে ইরানের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়। এতে ইসরাইল কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আরব দেশগুলো এখন এই কৌশল নতুন করে মূল্যায়ন করছে।
ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক হামলা সেই পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। যদিও হাউছিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও আমিরাতের অবস্থান এক, তবু রিয়াদ ইয়েমেনে আমিরাতের প্রভাব সীমিত করতে চাইছে। এর পেছনে ইসরাইল-আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২০ সালের স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পর ইসরাইল ও আমিরাতের সম্পর্ক আর গোপন নেই। এই সম্পর্কের মাধ্যমে আমিরাত আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইসরাইলের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মিত্র আরব রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, ইরানের চেয়ে ইসরাইল ও তার মিত্ররা কি এখন সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে? বিশেষ করে ইয়েমেন সঙ্কট নিরসনে সৌদি আরব যখন ইরান ও হুথিদের সাথে আলোচনায় বসছে, তখন এই প্রশ্ন আরো গুরুত্ব পাচ্ছে।
সুদান যুদ্ধেও এই কৌশলগত দ্বন্দ্বের ছাপ দেখা যাচ্ছে। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলবর্তী দেশ সুদানে আমিরাতের ভূমিকা এবং সেখানে ইসরাইলের কৌশলগত স্বার্থ আরব দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সাথে ইথিওপিয়া, গ্র্যান্ড রেনেসাঁ ড্যাম ও সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে ইসরাইল লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকায় নিজের অবস্থান শক্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইসরাইলকে শুধু ইরান বা হুথিদের মুখোমুখি করছে না; বরং তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তির সাথেও সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামাচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে নতুন ধরনের উত্তেজনা ও জোট রাজনীতির আশঙ্কা বাড়ছে।



