চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনা জোরদার হচ্ছে ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ১৫০ কিলোমিটারের দূরত্ব সড়কটি বর্তমান টু-ওয়ে এবং সঙ্কুচিত। বেশ কয়েকটি কারণে সড়কটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রূপ নেয়ায় সড়কে বাড়ছে যানবাহন। এতে দিনদিন বাড়ছে যানজট। পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে দুর্ঘটনা। যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে ১৫০ কিলোমিটার সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে কক্সবাজার, চকরিয়া ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন।

Printed Edition
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক |নয়া দিগন্ত

এ এম ওমর আলী চকরিয়া (কক্সবাজার)

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে যানজট ও দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ১৫০ কিলোমিটারের দূরত্ব সড়কটি বর্তমান টু-ওয়ে এবং সঙ্কুচিত। বেশ কয়েকটি কারণে সড়কটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রূপ নেয়ায় সড়কে বাড়ছে যানবাহন। এতে দিনদিন বাড়ছে যানজট। পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে দুর্ঘটনা। যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে ১৫০ কিলোমিটার সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে কক্সবাজার, চকরিয়া ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন করার দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, লোহাগাড়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ভয়ানক মৃত্যুফাঁদ থেকে জনসাধারণকে রক্ষার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের, এ অঞ্চলের মানুষের দাবি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন বাস্তবায়ন হোক, সাধারণ মানুষের মৃত্যু ফাঁদ বন্ধ হোক। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ৬ লেন বিরোধী আইনি নোটিশ বাতিলের দাবী জানান তিনি। শাহজাহান চৌধুরী আরো বলেন- শাহ সুজা সড়ক তথা আরাকান মহাসড়কে ৬ লেন বাস্তবায়ন করতেই হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু তাহের, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আনম নোমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি মাস্টার আব্দুস সালাম।

এ দিকে সড়কটি ৬ লেন করার দাবিতে ইতঃপূর্বে চকরিয়া ও কক্সবাজার শহরে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি সামাজিক সংগঠন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত এক বছরে এ সড়কে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছে। শুধু লোহাগাড়া ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত ৬ মাসে ৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং ২৯ জন নিহত ও ৫০ আহত হয়েছে।

গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত কক্সবাজার-১ আসনের এমপি প্রার্থী আবদুল কাদের প্রাইম বলেন- কক্সবাজার একটি পর্যটন এলাকা। বিশ্বের দৈর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এখানে। শুষ্ক মওসুমে প্রতিদিন পর্যটকদের আগমন হয় অনেক। তার ওপর উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প। বর্তমানে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণকাজ ক্রমে বেগবান হচ্ছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কক্সবাজারের মহেশখালী, মাতারবাড়ি ও চকরিয়া-পেকুয়া সিঙ্গাপুরের আদলে তৈরি হবে। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বর্তমানে যে পরিমাণ যান ও জনচলাচল হচ্ছে তা বেড়ে শিগগিরই দশগুণ বেড়ে যাবে। তাই সড়কের চাপ, যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করা জরুরি।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) চকরিয়া উপজেলা সভাপতি সোহেল মাহমুদ বলেন- চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত করা অতি জরুরি। এ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার বিষয়টি ব্যাপক স্থান পেয়েছে। গেল সপ্তাহে সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে সাধারণ লোকজন সড়কে ব্যারিকেড দেয়। পরে জামায়াত ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করতে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে ব্যারিকেড ভেঙে দেয়া হয়। ৫ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ নির্বাচনী গণসংযোগকালে এক পথসভায় বলেন, বিএনপি সরকারে গেলে প্রথম কাজ হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেন করার দাবিটি ডিপার্টমেন্টের নজরে এসেছে, তবে এটি জাতীয় নির্বাচনের আগে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ দেখা যাচ্ছে না। অতএব, নতুন নির্বাচিত সরকারকেই সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যবস্থা নিতে হবে।