বদরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা
জনগণের দাবি দ্রুত মেনে নিন। জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যথায় আপনাদেরই ক্ষতি হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করতে সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে জনদুর্ভোগ চলছে, তার জন্য সরকারের ব্যর্থতা দায়ী। সরকার দায়িত্ব নিয়েই জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব- জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। গতকাল সোমবার দুপুরে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় সাংবাদিকরা তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তারা উপজেলার মাদক সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং যেকোনো সংবাদ নির্ভয়ে প্রকাশের েেত্র সহযোগিতা কামনা করেন।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বলা হয় সমাজের আয়না। আপনারা সেই আয়নার ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা করি। তাহলে আমাদের সমাজ ও দেশের অগ্রযাত্রায় আপনারা অংশীদার হতে পারবেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে; কিন্তু জনগণ এসব অপপ্রচার বিশ্বাস করেনি। বরং নির্বাচনে আমাদের ৬৮ জনকে এমপি নির্বাচিত করেছে। যদিও নির্বাচনের ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের আসন কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা কথায় কথায় নিজেদের স্বাধীনতার পরে শক্তি দাবি করেন, তারা আজ কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন? যে শেখ হাসিনার কারণে এত বড় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, এখন তিনি পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, যেই দেশ বিগত ৫৫ বছরে বন্ধুত্বের পরিচয় দেয়নি, যেই দেশ বর্ডারে বাংলাদেশীদের পাখির মতো হত্যা করে, যেই দেশ শুকনো মৌসুমে নদীর পানি আটকে এবং বর্ষায় পানি ছেড়ে বাংলাদেশীদের কষ্ট দেয়, সেই দেশে যে আশ্রয় নেয় সে কিভাবে দেশের পরে শক্তি হতে পারে?
তিনি আরো বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হলেও আমরা দেশ ছেড়ে যাইনি। আমাদের অন্যতম নেতা শহীদ মীর কাসেম আলী সে সময় আমেরিকায় ছিলেন। অনেকে তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, দেশে না যেতে; কারণ তিনি ন্যায়বিচার পাবেন না এবং অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হতে পারে; কিন্তু তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা করে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তারা আমাকে অপরাধী বললেও আমি অপরাধী নই, আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমার মৃত্যু হলে দেশেই হবে। তিনি দেশে ফিরে এসেছেন, জেলে নেয়া হয়েছে এবং তাকে শহীদ করা হয়েছে। তাহলে কে দেশপ্রেমিক? কে দেশকে ভালোবাসে?
ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সাহস থাকলে দেশে আসুন। আমরা চাই, আপনি দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হন; কিন্তু তা না করে ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যেসব দাবিতে লংমার্চ করছি, তা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর দাবি নয়; এগুলো দেশের জনগণের দাবি। দেশের ৭০ ভাগ জনগণ, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, এটি তাদের দাবি। জুলাইয়ের শহীদরা শুধু মতার পরিবর্তন চাননি; তারা রাষ্ট্রের সংস্কার, আমূল পরিবর্তন এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছেন।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ইনশাআল্লাহ, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর লংমার্চে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত রাজপথে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। তিনি জনগণকে লংমার্চ কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির এস এম আলমগীর হোসেন, সেক্রেটারি মো: ইয়াকুব আলী প্রমুখ।
সভা শেষে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের নবনির্মিত ফকিরপাড়া জামে মসজিদ উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তারাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দেন এবং হাড়িয়ারকুঠি মেনানগর পঞ্চায়েতপাড়া মসজিদের উদ্বোধন করেন।



