পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে নতুন সরকার

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রা। এই যাত্রার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর থেকেই তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
Printed Edition

পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে নতুন সরকার। যেন স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের সূচনা। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একের পর এক চমকপ্রদ পদেেপ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন এক দিগন্তের দিকে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনতার প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে বিএনপি সরকারের হাত ধরে- এমনটাই মনে করছেন অনেক পর্যবেক।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জনতার আশা-আকাক্সাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রা। এই যাত্রার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর থেকেই তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মতার চর্চায়ও দেখা যাচ্ছে ভিন্নধর্মী বার্তা। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় বিশাল গাড়িবহর, দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছিল প্রায় নিয়মিত দৃশ্য। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক চিত্র। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মতোই ট্রাফিক আইন মেনে চলাচল করছেন এবং নিজেকে জনগণের কাতারের একজন হিসেবে উপস্থাপন করছেন। অনেকের কাছে এটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের সিদ্ধান্তও দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, সংসদে ভারসাম্য রা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের েেত্রও এসেছে নতুন বার্তা। নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই বিজিত রাজনৈতিক শক্তির নেতাদের সাথে সৌজন্য সাাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিরোধী দলের আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এই পদপেকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প, যা সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০টি খাল খনন এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃরোপণের একটি মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই কূটনৈতিক বার্তার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কারের েেত্রও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনে পদায়নের কথা বলা হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা দ ও যোগ্য কর্মকর্তাদেরও প্রশাসনে রাখা হয়েছে। এতে ধারাবাহিকতা ও দতাকে গুরুত্ব দেয়ার প্রবণতা ফুটে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়সঙ্কোচনের বিষয়েও জোর দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে অধীনস্থদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। রমজানে ব্যয়বহুল ইফতার আয়োজন পরিহার, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানো এবং বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি কেনা বন্ধের মতো সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

সরল জীবনযাপনের েেত্রও ব্যক্তিগতভাবে উদাহরণ স্থাপন করার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বড় গাড়িবহর ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা সীমিত করা, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার মাধ্যমে তিনি নাগরিকদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এসব পদপেকে অনেকেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা: সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্ত নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘নবগঠিত সরকার ও সরকারপ্রধানের গতিবিধি যা দেখছি, তাতে দেশের মানুষ আশাবাদী হতে পারে। সরকার অত্যন্ত ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশ অবশ্যই তার সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার যদি তাদের এই মনোভাব শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে, তবে অতীতের যেকোনো সরকারের তুলনায় এই সরকার ভালো কাজ করতে সম হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচিবালয়ে কর্মরত একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমার কর্মজীবনের ১৮ বছরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী দেখিনি। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না- সচিবালয়ে কাজের গতি কতটা বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের প্রভাব মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের ওপরও ইতিবাচকভাবে পড়েছে। ফলে বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যরা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তারা আমলাদের কাজে মনোযোগী হতে বাধ্য করছেন। এমনকি কোনো অনিয়ম করার েেত্রও এখন অনেকেই সাহস পাচ্ছেন না। সরকারের এই অবস্থানের ফলে সৎ কর্মকর্তারা যেমন উৎসাহিত হচ্ছেন, তেমনি দেশে দুর্নীতি কমবে বলেও আশা করা যাচ্ছে।’

এদিকে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষেরও দৃষ্টি কেড়েছে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন সরকারের শুরুটা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ইতিবাচক মনে হচ্ছে। তারা নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী অল্প সময়েই যে উদ্যোগগুলো নিয়েছেন, তা আমাদের অনেকের প্রত্যাশার বাইরেও ছিল। শুরুতে আমাদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা ছিল, সরকারের আচরণ কেমন হবে তা নিয়ে। কিন্তু এখন যে ধারা দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।’