নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে। এবারের স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ১৮ বছর পর আয়োজিত জাতীয় প্যারেডে প্রথমবারের মতো বিজিবির আধুনিক যান্ত্রিক বহরের অংশগ্রহণ, যা বাহিনীর সক্ষমতার এক অনন্য প্রদর্শনী হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
গতকাল সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্যারেডে বিজিবির একটি সুসজ্জিত কনটিনজেন্ট অংশ নেয়।
বিজিবির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, প্যারেডে এই প্রথমবারের মতো তাদের যান্ত্রিক বহর অংশ নিয়েছে, যেখানে দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাহিনীর আধুনিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে বিজিবির অত্যাধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জামাদি বিশেষ করে এয়ার উইংয়ের তত্ত্বাবধানে হেলিকপ্টার ফ্লাইপাস্ট, সীমান্তে শত্রুর যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন্স, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার ও রায়োট কন্ট্রোল ভেহিকেল, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম কুইক রেসপন্স ফোর্স ও র্যাপিড অ্যাকশন টিম, সীমান্তের যেকোনো দুর্গম অঞ্চলে টহল দিতে সক্ষম অল টেরেইন ভেহিকল এবং বিজিবি ক-৯ ইউনিটের প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াডের দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। এই অংশগ্রহণ বিজিবির আধুনিকায়ন ও পেশাদারত্বের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরসহ দেশের সব ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী অংশ নেন। এরপর দুপুরে বিজিবি মহাপরিচালক পিলখানায় ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
এ দিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধিতে এবং রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিজিবি জাদুঘর এবং বিজিবি চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত রাখা হয়।
দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল এশার নামাজের পর পিলখানাস্থ সদর দফতরসহ সারা দেশে বিজিবির সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটের মসজিদে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও অগ্রগতি, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং বাহিনীর উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় । এর আগে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যায় নিহত শহীদদের স্মরণে জোহরের নামাজের পর বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।



