অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলায় আরো ৪ জনের সাক্ষ্য

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ইউসিবিএল ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় আরো চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন বলেন, ‘সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রীসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে মামলাটিতে চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে। সাক্ষীরা সবাই ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা। আগামী ৬ অগাস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হলো। মামলাটিতে মোট সাক্ষী ৯৬ জন। এর আগে গত ৫ এপ্রিল এই মামলার বাদি দুদকের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের কর্মকর্তা মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে-১ মামলাটি করেছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো: হাসানুল ইসলাম এই মামলায় দুদকের দেয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রোটকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের বন্দর শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়েছিল। পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মোটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করে। নেতিবাচকব প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কোনো যাচাই-বাছাই না করে ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকা ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে যা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়। পরে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কেনা এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টে ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসেবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।