সংশোধনে সূচক ও লেনদেন হ্রাস পেয়েছে পুঁজিবাজারে

লেনদেন স্থগিত হলো ঝিল বাংলা সুগার মিলের

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

টানা দুই দিন সূচকের উন্নতির পর ফের সংশোধনের মুখে পড়েছে পুঁজিবাজার। এতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একটি সূচক নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও প্রধান দু’টি সূচকের অবনতি ঘটেছে। হ্রাস পেয়েছে লেনদেনও। তবে দেশের চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের আচরণ ছিল ইতিবাচক। এখানে সবগুলো সূচকেরই কমবেশি উন্নতি ঘটে। উন্নতি ঘটে লেনদেনেরও।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা দিনের বাজার আচরণকে বরাবরের মতোই স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, গত কিছুদিন থেকে বাজারে কমবেশি সংশোধন ঘটলেও এ সময় দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। এতে মূল্যস্তরের যে পরিবর্তন ঘটেছে তা মুনাফা তুলে নেয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকে দীর্ঘসময় পর্যন্ত দুই পুঁজিবাজারেই সূচকগুলো একটি নির্দিষ্ট অবস্থান ধরে রাখলেও শেষদিকে এসে বিক্রয়চাপ তৈরি হয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৮ দশমিক ২৪ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৫ হাজার ৭৯৯ দশমিক ৫১ পয়েন্ট থেকে সূচকটি দিনশেষে স্থির হয় ৫ হাজার ৭৮১ দশমিক ২৭ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচকটি ১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও ডিএসই ৩০ সূচকটি হারায় ১০ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সব সূচকেরই কমবেশি উন্নতি ঘটে। এখানে সিএসই সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স এর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৫৪ দশমিক ৪৩ ও ১৯ দশমিক ০১ পয়েন্ট।

সূচকের মিশ্র আচরণের ফলে ঢাকা বাজারে গতকাল লেনদেনেরও অবনতি ঘটে। ডিএসই এক হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ২৮ কোটি টাকা কম। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল এক হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। অপরদিকে সূচকের উন্নতির প্রভাব ছিল সিএসইতে। এখানে ১৬ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।

গতকাল পুঁজিবাজারে বেশির ভাগ খাতই বিক্রয়চাপের মুখে দরপতনের শিকার ছিল। মিউচুয়াল ফান্ড, খাদ্য ও টেক্সটাইল খাত বিক্রয়চাপ কিছুটা হলেও এড়াতে পেরেছে। অপর দিকে ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিমেন্ট, সিরামিকস, কাগজ ও টেলিকমিউনিউকেশন খাতে লেনদেন অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই দর হারায়। আর এসব খাত মূলধনসমৃদ্ধ হওয়ায় তা সূচক পতনে ভূমিকা রাখে। বাকি খাতগুলোর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়াজাত শিল্প ও সেবা খাতে মিশ্র আচরণ ছিল এদিন। ফলে ঢাকা স্টকে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে বেশির ভাগই দরপতনের শিকার হয়। লেনদেন হওয়া ৩৯০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৬০টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৮০টি। অপরিবর্তিত ছিল ৫০টির দর। অপর দিকে, সূচকের উন্নতি ধরে রাখা চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেন হওয়া ২৫০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১২৩৪টির দাম বাড়ে, ১০৩টির কমে এবং দাম অপরিবর্তিত থাকে ২৪টি সিকিউরিটিজের।

এ দিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি ঝিলবাংলা সুগার মিলসের শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি ও লেনদেনের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

গতকাল ডিএসই ও সিএসই লেনদেনের এক পর্যায়ে এ পদক্ষেপ নেয়।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতি সংক্রান্ত কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। বিষয়টি নজরে আসার পর তাৎক্ষণিক নজরদারির অংশ হিসেবে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে এসে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেশ কয়েক দিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঝিল বাংলা সুগার মিলসের শেয়ারদর দ্রুত গতিতে বাড়ছে। গত ১৮ জুন শেয়ারের দাম ছিল ১২২ টাকা ১০ পয়সা। সোমবার লেনদেন শেষে এই দর বেড়ে ১৬৬ টাকায় উঠে যায়। গতকাল সকালে লেনদেনের শুরুতেই এই দর আরো বেড়ে ১৮০ টাকায় পৌঁছে যায়। তবে লেনদেন বন্ধ করা হলেও এর আগেই কোম্পানিটির শেয়ারদর দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশের বন্ধ থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট

কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই ওসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি ও ঝিল বাংলা সুগার মিলের মতো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃািদ্ধ ঘটে চলেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা যাতে যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া কোনো কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা প্রতারিত না হন।

গতকাল ঢাকা স্টকে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। ৫০ কোটি ২৩ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৩২ লাখ ৭৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় এদিন। ৪৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকায় এক কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে ছিল টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি মালেক স্পিনিং। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক, এপেক্স স্পিনিং, আইটিসি, সিমটেক্স, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড, বেক্সিমকো লিমিটেড, আইপিডিসি ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।