কুমিল্লায় ঝুঁকিপূর্ণ ১৯ বেইলি সেতুতে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা

হাবিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা
Printed Edition
কুমিল্লার একটি বেইলি সেতু : নয়া দিগন্ত
কুমিল্লার একটি বেইলি সেতু : নয়া দিগন্ত

কুমিল্লা জেলায় অন্তত ১৯টি বেইলি সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচল করছে। প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত এসব সেতুতে হাঁটলেও কেঁপে ওঠে, ভারী যান চললে নড়ে ওঠে গার্ডার। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ছয় মাস বা এক বছরের ব্যবধানে কোনো না কোনো বেইলি সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছরই বেইলি সেতু ধসের খবর গণমাধ্যমে আসে। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জেলা সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর অধিকাংশই মুরাদনগর উপজেলায়। এ ছাড়া দেবিদ্বার, সদর, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলায়ও কয়েকটি বেইলি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে, বাকিগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) পরিচালিত। সড়ক বিভাগের বেইলি সেতুগুলোর মধ্যে রয়েছে, মুরাদনগরের রাজা চাপিতলা-রামচন্দ্রপুর-পাঁচকিত্তা সড়কের ব্রাহ্মণ চাপিতলা ও মির্জাপুর, কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের দৌলতপুর, মুকলিশপুরের দু’টি, মাতনঘর ও কড়ইবাড়ি, চান্দিনা-দেবিদ্বার সড়কের নবীয়াবাদে তিনটি, নিমসার-কংশনগর-বুড়িচং সড়কের তালতলা, চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম সড়কের পরিকোট, কাদ্রা ও লাকসাম, লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ সড়কের খুন্তা এবং কুমিল্লা-কসবা সড়কের চাঁনপুর সেতু। ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের পাঁচটি বেইলি সেতু শিগগিরই গার্ডার সেতুতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এলজিইডির অধীনে দেবিদ্বারের কালিকাপুর-এগারগ্রাম সড়কে গোমতী নদীর ওপর একটি এবং দাউদকান্দির পীতাম্বরদি ও কদমতলীতে দু’টি বেইলি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে পীতাম্বরদি সেতুর সংস্কার জরুরি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন দেখা যায়, বেশ কয়েকটি সেতুর সামনে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু- ৫ টনের বেশি পণ্যবাহী যান নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও ১০ টনের বেশি ভারী যান চলাচল করছে। কোথাও কোথাও পাটাতনে ফাঁক, আবার সেতুগুলো সরু হওয়ায় দুই পাশেই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। এমন চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার চাঁনপুর ও মুরাদনগরের মাতনঘর সেতুতে। কয়েক মাস আগেই মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: হেলাল বলেন, ‘প্রায় প্রতি বছরই এই সেতু ভাঙে। মানুষ হতাহত হয়।’ চাঁনপুর এলাকার খোরশেদ আলম জানান, গোমতী নদীর ওপর চাঁনপুর সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সঙ্কীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গার্ডার সেতু এখন সময়ের দাবি।

কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের দুটো বেইলি সেতুকে গার্ডার সেতুতে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বেইলি সেতুও স্থায়ী সেতুতে রূপান্তর করা হবে।’