ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির ছায়া সংসদ

কুইক রেন্টাল দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত: জালাল আহমেদ

Printed Edition
অতিথি ও বিচারকদের সাথে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির বিজয়ী বিতার্কিকরা : নয়া দিগন্ত
অতিথি ও বিচারকদের সাথে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির বিজয়ী বিতার্কিকরা : নয়া দিগন্ত

বিগত সময় কুইক রেন্টালের নামে কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে অনিয়ম করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। কুইক রেন্টালের মেয়াদ তিন বছর হওয়ার কথা, যার দাম ছিল ১৬ টাকা। কিন্তু ইনভেস্টমেন্ট রিকভারি হয়ে যাওয়ার পরও নবায়নের সময় শুধু অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচারের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ না করে প্রায় আগের মূল্যেই বিদ্যুৎ কেনা হয়েছিল। তাই কুইক রেন্টালের দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া যায় না। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। দ্রুতই দেশের চলমান জ্বালানি সঙ্কট নিরসনের সম্ভাবনা নেই। তবে সরকারের পলিসি সাপোর্ট অব্যাহত থাকলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করে ঘাটতি মিটিয়ে সঙ্কট কাটানো সম্ভব। এতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না। এ জন্য সরকারকে নীতি সহায়তা প্রদান করে কম সুদে ঋণের ব্যবস্থার মাধ্যমে সুষম সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ অনেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। তাই আমাদেরকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিশ্র জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। গতকাল শুক্রবার এফডিসিতে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ’ নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল। কায়েমি স্বার্থে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কমিশনের লোভে এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। পতিত সরকারের সময় জ্বালানি নীতি ছিল বিভ্রান্তিকর, বিতর্কিত ও তোষণমূলক। বিগত শাসনামলের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে জ্বালানি সঙ্কটে শিল্প উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। পতিত সরকারের আমলের জ্বালানি খাতে ধারাবাহিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎসঙ্কট তৈরি হয়েছে। যার মাশুল এখন শিল্পোদ্যোক্তাসহ জনগণকে গুনতে হচ্ছে। তাই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করলে, তা হবে তাদের প্রতি অবিচার। বাপেক্সকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে রাখা হয়েছিল। দুর্নীতির উদ্দেশ্যে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষে বাপেক্স দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোনো উদ্যোগই নেয়নি। বিগত সময়ে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল একটা ভয়াবহ দুর্নীতির আখড়া। কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই লক্ষকোটি টাকা নিয়ে গেছে। জনাব কিরণ আরো বলেন, দেশে বিদ্যমান গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা দ্রুত সমাধান করে শিল্প-কারখানাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। জ্বালানি সমস্যা সমাধান করা না গেলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে, রফতানি আয় কমবে, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘিœত হবে, পরিবহন খরচ বাড়বে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে, বেকার সমস্যা বাড়বে, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (নিটার) পরাজিত করে সরকারি বাঙলা কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন সাংবাদিক সদরুল হাসান, সাংবাদিক রিশান নসরুল্লাহ, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন, সাংবাদিক রফিকুল বাসার, ও সাংবাদিক আতিকুর রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি। বিজ্ঞপ্তি।