জাকসু নির্বাচন ঘিরে তৎপর ছাত্র সংগঠনগুলো

হতে পারে সাত প্যানেল

সব ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে এবারের জাকসু নির্বাচনে সাতটি প্যানেল থাকতে পারে ভোটের লড়াইয়ে। এবারের জাকসু নির্বাচনে সাতটি প্যানেল হতে পারে।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Printed Edition

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরোদমে চলছে তাদের প্যানেল গোছানোর তৎপরতা। সংগঠনগুলোর মাঝে চলছে জোট গঠনের আলোচনা ও দরকষাকষি।

সংগঠনগুলোর প্যানেলে কাকে কোন পদে রাখা হবে, তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলাপ-আলোচনা। সূত্র বলছে, সব ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে এবারের জাকসু নির্বাচনে সাতটি প্যানেল থাকতে পারে ভোটের লড়াইয়ে। এবারের জাকসু নির্বাচনে সম্ভাব্য সাতটি প্যানেলের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, বাম ছাত্র সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিয়ে দু’টি পৃথক জোট, গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন এবং সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখদের নিয়ে গঠিত আরেকটি স্বতন্ত্র জোট।

জাবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাকসু নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ছাত্রদল। জাবি শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে ছাত্রদলের প্যানেল চূড়ান্ত করার বিষয়ে অভিভাবক হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শ নেয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। ছাত্রদল এখনো প্যানেল চূড়ান্ত না করলেও শাখা ছাত্রদলের সদস্যদের মধ্যে বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শেখ সাদী ভিপি পদে ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের মেহেদী ইমন এবং ইংরেজি বিভাগের ৫০তম ব্যাচের হামিদুল্লাহ সালমান জিএস পদে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, আপাতত আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন সংগ্রহ করবেন। মনোনয়ন নেয়ার পর প্যানেল ঘোষণা করা হবে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে শীর্ষ দুই পদে সম্ভাব্য প্রার্থী শাখা শিবিরের অফিস ও প্রচার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক শাফায়াত মীর। তবে অন্য যেকোনো প্যানেলের সাথে জোট করলে ভিপি পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা যায়। প্যানেলে এজিএস নারী পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ পদে প্রতিনিধিত্ব করবেন দর্শন ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা মেঘলা। তাদের প্যানেলে নারী প্রতিনিধি থাকবে এবং অমুসলিম প্রার্থীও থাকতে পারে। শিবিরের জাবি শাখার সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা প্যানেল নিয়ে কাজ করছি। দ্রুত সম্ভাব্য প্যানেল ঘোষণা করা হবে। মনোয়ন শেষে চূড়ান্ত প্যানেল জানানো হবে।’

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করবেন সংগঠনটির জাবি শাখার আহ্বায়ক আরফুজ্জামান উজ্জ্বল। জিএস পদে নির্বাচন করবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাবি শাখার সদস্য সচিব আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম। তবে এজিএস পদসহ অন্য পদগুলোয় কারা প্রার্থী হবেন, সেটি এখনো ঠিক হয়নি। আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, প্রাথমিকভাবে ভিপি ও জিএস পদের নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে বাকি পদগুলোর জন্য আলোচনা চলছে। মনোনয়নের পরে আমরা পুরো প্যানেল ঘোষণা করব।

গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে আরেকটি প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিনিধিত্ব করবে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুর রশিদ জিতু। এ প্যানেলের জিএস পদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকিল ইসলাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যান্য পদের জন্য এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানান আবদুর রশিদ জিতু।

বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর জোটের প্যানেল থেকে শীর্ষ পদগুলোয় প্রার্থী হতে পারেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি অমর্ত্য রায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের (একাংশ) সভাপতি ফাইজা মেহজাবিন প্রিয়ন্তি এবং সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি শরণ এহসান। তবে কে কোন পদে দাঁড়াবেন সেটি এখনো ঠিক করা হয়নি বলে জানান অমর্ত্য রায়। তিনি জানান, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোট (একাংশ), ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ আরো কয়েকটি সংগঠনের আমরা আলোচনা করছি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে জোটবদ্ধভাবে আমরা প্যানেলের নামসহ প্যানেল ঘোষণা করব।

অন্য দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যাল সাংস্কৃতিক জোট (একাংশ), ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ আরো কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে আরেকটি প্যানেল হবে বলে যানা যায়। এ প্যানেলের ভিপি পদে সাংস্কৃতিক জোটের মুখপাত্র মাহফুজুল ইসলাম মেঘ এবং জিএস পদে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন, সেক্রেটারি তানজিম আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্ট্রের সংগঠক সোহাগী সামিয়া থাকতে পারে বলে জানা যায়। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) সভাপতি ও ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী মামুনকে ভিপি পদের রেখে আরেকটি স্বতন্ত্র প্যানেল হবে বলে শোনা গেছে। তবে প্যানেল বা প্রার্থীদের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।