আলজাজিরা
একজন ভারতীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করেছেন যে তিনি ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পানুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। ৫৪ বছর বয়সী নিখিল গুপ্ত গত শুক্রবার আদালতে দোষ স্বীকার করেন। তিনি ভারতে অবস্থানকালে একজন ভাড়াটে খুনিকে হত্যার জন্য ১৫ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন বলে জানান। তবে যার সাথে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন, তিনি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী সংস্থার (ডিইএ) হয়ে কাজ করছিল।
গুপ্তকে ২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা-ভাড়া, হত্যা ষড়যন্ত্র ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষ স্বীকারের ফলে তিনি অন্তত ২০ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।
মামলার পটভূমি
প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদব গুপ্তকে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত করেছিলেন। ভারত সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পানুন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নাগরিক এবং নিউ ইয়র্কভিত্তিক ‘শিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠনের সাথে যুক্ত। তিনি বলেন, “আমি সন্ত্রাসী নই। আমি মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে কাজ করছি, যেখানে সব ধর্মের সমান অধিকার থাকবে।” তিনি আরো বলেন, গুপ্ত কেবল একজন “পদাতিক সৈনিক”। আসল দায়ভার ভারত সরকারের ওপর, যারা এ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়
মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে নিখিল গুপ্তকে নিয়োগ করেছিলেন বিকাশ যাদব নামে এক ব্যক্তি। বিকাশ যাদব ভারতের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যাদবের নির্দেশেই নিখিল গুপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পানুনকে হত্যা করতে ভাড়াটে খুনি খুঁজছিলেন।
তবে নিখিল গুপ্ত জানতেন না, তিনি যাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, তারা আসলে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়ে কাজ করছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, পানুনকে হত্যার জন্য এক লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছিল। এই অর্থের মধ্যে ১৫ হাজার ডলার অগ্রিম দেয়া হয়েছিল।
নিখিল গুপ্ত শিখ নেতা পানুনের বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এবং এফবিআই (এফবিআই) এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল।



