লাদাখে স্বতন্ত্র মডেলের শাসনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ ভারতের

Printed Edition

এনডিটিভি

বিশেষ সাংবিধানিক কাঠামোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের মুখে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় লাদাখকে সংবিধানের ৩৭১ অনুচ্ছেদের অধীন সুরা দেয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। একইসাথে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে একটি নির্বাচিত পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন এই কাঠামোটি প্রচলিত কোনো রাজ্য কিংবা বিধানসভা বিশিষ্ট কেন্দ্রশাসিত এলাকার মতো হবে না; এটি পরিচালিত হবে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ব্যতিক্রমী ‘সুই-জেনারেস’ মডেলে।

এনডিটিভিকে দেয়া এক বিশেষ সাাৎকারে লাদাখের মুখ্যসচিব আশিস কুন্দ্রা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লাদাখের জনগণের মৌলিক অধিকার ও ভূখণ্ড রায় প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দিতে ভারতের পার্লামেন্টে ৩৭১ অনুচ্ছেদে সংশোধন আনা হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই নির্বাচিত পরিষদ গঠন ও আইনি সুরা দেয়ার নীতিগত কাজ শুরু করেছে। আশিস কুন্দ্রা উল্লেখ করেন, লাদাখের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের একটি অনন্য প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরিষদ থাকলেও তা কোনো ঐতিহ্যবাহী বিধানসভা কিংবা পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার রূপ নেবে না।

উল্লেখ্য, ‘সুই-জেনারেস’ একটি লাতিন শব্দবন্ধ, যার অর্থ হলো ‘স্বাতন্ত্র্যসূচক’ বা ‘নিজস্ব ঘরানার’। বিশেষ কোনো এলাকার ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এমন স্বতন্ত্র আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। লাদাখের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের সংলাপ কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আশিস কুন্দ্রা। কেন্দ্র ও লাদাখ নেতৃবৃন্দের মধ্যে গত মঙ্গলবার দিল্লিতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে পুনর্গঠনের মাধ্যমে লাদাখকে বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের এই পদেেপ স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে প্রত্য আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই অঞ্চলের বাসিন্দারা পূর্ণাঙ্গ রাজ্যভিত্তিক রূপ এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত আইনি নিরাপত্তার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন।