নতুন রূপে লিডস পিয়ানো প্রতিযোগিতা

Printed Edition
নতুন রূপে লিডস পিয়ানো প্রতিযোগিতা
নতুন রূপে লিডস পিয়ানো প্রতিযোগিতা

সাকিবুল হাসান

বিশ্বখ্যাত পিয়ানোবাদক স্যার স্টিফেন হাফের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নতুন রূপে ও যুগান্তকারী সব সংস্কার নিয়ে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী ‘লিডস ইন্টারন্যাশনাল পিয়ানো কম্পিটিশন’। ১৯৬৩ সালে শুরু হওয়া তিন বছর মেয়াদি এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রতিযোগীদের সুর নির্বাচন ও বয়সের ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে অবারিত স্বাধীনতা। বাঁধাধরা নিয়মের বৃত্ত ভেঙে সঙ্গীতের মূল সুর ও শিল্পীর নিজস্বতাকে খোঁজার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতাকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলীর প্রধান বা চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করবেন স্যার স্টিফেন হাফ। বিচারক প্যানেলে তার সাথে আরো থাকছেন সহকর্মী পিয়ানোবাদক পিওতর আন্দারজেউস্কি, লুকাস দেবুর্গ, ইওল ইউম সন, ক্যাথরিন স্টট এবং ‘মাস্টার অব দ্য কিংস মিউজিক’-খ্যাত প্রখ্যাত সুরকার এরোলিন ওয়ালেন।

আসন্ন ২০২৭ সালের এই প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৫ বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিযোগীরা কোন মিউজিক পরিবেশন করবেন, সে বিষয়ে তাদের দেয়া হয়েছে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা- তা হতে পারে কুপরিন বা কোপল্যান্ড, কিংবা বুলেজ বা বুসোনি। প্রতিযোগিতার এই রূপান্তর প্রসঙ্গে স্যার স্টিফেন হাফ বলেন, তিনি কখনোই বিচারক প্যানেলে থাকতে চাননি এবং প্রতিযোগিতা তার পছন্দ নয়। এগুলোকে অনেক সময় একগুচ্ছ পরীক্ষার মতো মনে হয়, যেখানে প্রতিযোগীদের ভুল ধরার চেষ্টা করা হয়। সঙ্গীতের মূল উদ্দেশ্য তো এটি নয়। তবে তিনি ভাবলেন, লিডসে হয়তো ভিন্ন কিছু করা সম্ভব। তরুণ সঙ্গীতশিল্পীদের নিজেদের মেলে ধরার জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা দরকার, যাতে তারা দেখাতে পারে তারা আসলে কে। অধিকাংশ সময়ই এসব প্রতিযোগিতা মিউজিক কলেজের চূড়ান্ত পরীক্ষার একটি অংশ বলে মনে হয়। কিন্তু তারা জানতে চান, প্রতিযোগীদের যখন উইগমোর হল বা কার্নেগি হলে প্রথম পারফর্ম করার সুযোগ দেয়া হবে, তখন তাদের প্রোগ্রাম বা সূচিটা কেমন হবে। তারা এমন একটি প্রোগ্রাম দেখতে চান যা প্রতিযোগীদের ভেতরের সেরাটা বের করে আনে।

কনসার্ট ফাইনালের জন্য প্রতিযোগীদের তিনটি পিয়ানো কনসার্টো জমা দিতে হবে। এটিও কোনো পূর্বনির্ধারিত তালিকা থেকে বেছে নিতে হবে না; বরং সম্পূর্ণ নিজেদের পছন্দের হতে হবে, যা তারা ‘রয়্যাল লিভারপুল ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা’ এবং এর প্রধান কন্ডাক্টর ডমিঙ্গো হিন্ডোয়ানের সাথে আনন্দের সাথে বাজাতে পারবেন। এরপর হিন্ডোয়ান, হাফ এবং বিচারক প্যানেলের একজন সদস্য মিলে ঠিক করবেন তারা ফাইনালিস্টের কাছ থেকে কোন কাজটি শুনতে চান। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বয়স ৩০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, লিডসে এবার তা বাড়িয়ে ৩৫ করা হয়েছে। হাফের মতে, এর মাধ্যমে তিনি তরুণদের বার্তা দিতে চান যে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। নিজের কিশোর বয়সের স্মৃতিচারণ করে তিনি তার পিয়ানো শিক্ষক গর্ডন গ্রিনের একটি কথা স্মরণ করেন, যিনি বলেছিলেন, ছাত্ররা ভবিষ্যতে কেমন বাজাবে, সেটিই তার দেখার বিষয়।

লিডসের মঞ্চ থেকে রাদু লুপু এবং মারে পেরাহিয়ার মতো কিংবদন্তিরা উঠে এসেছেন। তবে এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র দু’জন নারী বিজয়ী হয়েছেন।

তাই অবচেতন পক্ষপাতিত্ব দূর করতে ২০২৪ সাল থেকে প্রথম রাউন্ডের জন্য ‘ব্লাইন্ড লিসেনিং’ বা পরিচয় গোপন রেখে শুধু বাজানো শুনে বিচার করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতাতেও বজায় থাকবে। হাফ মনে করেন, লিডসের মঞ্চে যখন একজন ২০ বছর বয়সী প্রতিযোগী এসে দাঁড়ায়, তখন ভারসাম্য বা প্রতিনিধিত্বের কথা ভাবাটা আসলে বেশ দেরি হয়ে যায়। এটার চর্চা আরো আগে থেকে, পরিবার এবং স্কুলপর্যায় থেকে শুরু হওয়া উচিত।

প্রধান পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার পাউন্ডের পাশাপাশি সমসাময়িক মিউজিক, সেরা এনকোর বা বিদায়ী পরিবেশনা, একটি নতুন ‘লিডস পিয়ানো ট্রেইল’ পুরস্কার এবং একটি অডিয়েন্স বা দর্শক পুরস্কার থাকবে।

হাফের মতে, বিজয়ী নির্বাচন করাটা একটি আপেক্ষিক বিষয়, তাই প্রধান বিজয়ী ছাড়াও বাকিদেরও সমান মূল্যায়ন করা হবে। বিবিসি রেডিও-৩ এর সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল সম্প্রচার করবে। এছাড়া মেডিসি টিভির সাথে অংশীদারিত্বের কারণে ফাইনাল রাউন্ডগুলো লাইভস্ট্রিম করা হবে। ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। চূড়ান্ত বা ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে লিডস টাউন হলে, ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৭ সালে।