শেষ বত্রিশের পথে হলান্ডের নরওয়ে

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব মাত্র শুরু হলেও কিছু দলের সামনে ইতোমধ্যেই নকআউটের দরজা খুলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গ্রুপ ‘আই’য়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও সেনেগাল। আগামীকাল ভোর ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে জয় পেলেই শেষ বত্রিশের টিকিট প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে নরওয়ের। অন্য দিকে সেনেগালের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বিশ্ব মঞ্চে টিকে থাকার লড়াই।

প্রথম ম্যাচের পর গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে নরওয়ে। ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় শুধু ৩ পয়েন্টই এনে দেয়নি, দলটিকে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসও। দীর্ঘ দিন পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে এসে তারা দেখিয়েছে কেন বাছাইপর্বে টানা আট ম্যাচ জিতে এসেছিল। সেই ম্যাচে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেন নরওয়ের তারকা আক্রমণভাগের নেতা আর্লিং হলান্ড। প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেই তিনি করেছেন জোড়া গোল এবং পুরো ইরাকি রক্ষণকে একাই ভেঙে দেন। প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি। পরে আরো দু’টি গোল যোগ হলে জয় আরো বড় হয়।

প্রথম ম্যাচ শেষে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় নরওয়ে বর্তমানে ফ্রান্সের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় এলে অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকাতে হবে না, সরাসরি নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে বড় জয় পেলেও নরওয়ের সবকিছু নিখুঁত নয়। সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণভাগ খুব বেশি স্থির ছিল না। শেষ কয়েক ম্যাচে খুব কমবারই তারা প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রাখতে পেরেছে। এমনকি টানা কয়েক ম্যাচে গোলও হজম করেছে। কিন্তু তাদের আক্রমণশক্তি সেই দুর্বলতাকে ঢেকে দিয়েছে।

নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মাঝমাঠ ও আক্রমণের সমন্বয়। দ্রুত বল আদান-প্রদান, ডান-বাম দুই পাশ দিয়ে আক্রমণ তৈরি এবং সামনে শারীরিকভাবে শক্তিশালী খেলোয়াড়দের ব্যবহার, সব মিলিয়ে তারা প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

অন্য দিকে সেনেগাল প্রথম ম্যাচে হারলেও একেবারে হতাশ করার মতো ফুটবল খেলেনি। ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা বেশ কিছু সময় সমানতালে লড়েছে। এমনকি এক পর্যায়ে গোল করে ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিতও দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফরাসি আক্রমণের ধার সামলাতে পারেনি আফ্রিকার দলটি। সেই হারে এখন তাদের সামনে কঠিন দাঁড়িয়েছে সমীকরণ। এই ম্যাচেও হারলে সরাসরি পরের পর্বে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যেতে পারে দলটির।

সেনেগালের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো তাদের আক্রমণভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে তারা প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশ্রণে তৈরি আক্রমণ যে কোনো দলের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে গোল করা তরুণ ফুটবলার আলোচনায় উঠে এসেছেন। বিশ্বকাপে আফ্রিকার হয়ে এত কম বয়সে গোল করার ঘটনা বিরল। তবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপরও ভরসা রাখছে দলটি। ইতিহাসের দিক থেকেও সেনেগাল কিছুটা সাহস পেতে পারে। দুই দলের আগের একমাত্র সাক্ষাতে জয় পেয়েছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরাই। যদিও সেই ম্যাচ বহু বছর আগের এবং বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলীয় খবর অনুযায়ী নরওয়ের কয়েকজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে নিয়ে সামান্য শঙ্কা ছিল। তবে সবাই সুস্থ হয়ে ফিরেছেন।