ফেনীতে জুলাই শহীদ সবুজ হত্যা মামলায় ভাইয়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

Printed Edition
ফেনীতে চব্বিশের ৪ আগস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সবুজ (ইনসেটে) :  নয়া দিগন্ত
ফেনীতে চব্বিশের ৪ আগস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সবুজ (ইনসেটে) : নয়া দিগন্ত

ফেনী অফিস

ফেনী শহরের মহিপালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় বর্বরোচিত ছাত্র-জনতা গণহত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সেদিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গুলিতে নিহত টমটম চালক মো: সবুজ হত্যা মামলায় গতকাল ভাই ইউছুপ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহা: সিরাজুদ্দৌলা কুতুবী এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

আদালতে ইউছুপ জানান, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি বাদি হয়ে ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেন। সবুজের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি হলেও ফেনী শহরে টমটম চালাতেন। তারা চাড়িপুরে ভাড়া বাসায় সপরিবারে বসবাস করেন।

২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: ফারুক মিয়া ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। আসামিদের মধ্যে ফেনী-১ আসনের সাবেক এমপি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের লে. জে. (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রয়েছেন। আলোচিত এ মামলায় ৯ জন কারাগারে, ৪৬ জন জামিনে ও ৬৯ জন পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে গ্রেফতারের পর সফিকুল ইসলাম সম্রাট হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন।

ইউছুপ আরো জানান, আমার ভাই সবুজও অটোরিকশা চালাত। তাকে ৪ আগস্ট, বেলা ২টার দিকে সার্কিট হাউজ রোডের পূর্ব মাথায় মহিপাল ফ্লাইওভারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল। আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করে। আসামি নিজাম উদ্দিন হাজারী, শুসেন চন্দ্র শীল, জিয়া উদ্দিন বাবলুদের নির্দেশে অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হয়ে নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর গুলি করে।

ফেনী পৌরসভার সামনে উল্লেখিত আসামিরা ট্রাভেল ব্যাগে থাকা অস্ত্র-গুলি বিভিন্ন আসামির মাঝে বিতরণ করে এবং সেই অস্ত্র নিয়ে আসামিরা একযোগে মহিপালে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করে। আমার ভাই সবুজকে পাসপোর্ট অফিসের সামনে সার্কিট হাউজ রোডের মাথায় গুলি করে। সবুজের পিঠের পেছন দিক থেকে গুলি বুকের বাম পাশ দিয়ে বের হয়। পরে আশপাশের ছাত্রজনতাকে নিয়ে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় আদালতে আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন বাহার, হাজী আবদুল করিম, নুরুল আলম প্রকাশ মিস্টার, মো: মোসলেম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, আল মাহমুদ সাগর, নুর নবী প্রকাশ নবী মেম্বার, নূরুল ইসলাম প্রকাশ সবুজ, রুপম শর্মা উপস্থিত ছিলেন। আসামীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট শরফুদ্দিন শাহীনের জেরার মুখে বাদি মো: ইউছুপ বলেন, আমি নিজেই ঘটনাস্থালে উপস্থিত ছিলাম।

পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান জানান, বাদির জেরার জন্য আগামী ১৭ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে গত ৫ মে ১২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।