সব শ্রেণিপেশার মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচার হটিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের পূর্ব রহমতপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে সেনাসদস্যদের খাবার খান : নয়া দিগন্ত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের পূর্ব রহমতপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে সেনাসদস্যদের খাবার খান : নয়া দিগন্ত

আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মিলে যুদ্ধ করে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। মাত্র কয়েকদিন আগের কথা, স্বৈরাচারকে এ দেশ থেকে বিদায় করেছি। সব শ্রেণীপেশার, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে হটিয়েছে। এভাবে সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সবাই উপকৃত হবো। আসুন এই বৃক্ষ রোপণের দিনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই যে যার অবস্থান থেকে পরিবেশকে সুন্দর ও ভালো রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

গতকাল সোমবার দুপুরে বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউনসংলগ্ন সাগরদী খালের দুইপাশে একযোগে সাড়ে তিন শত গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, নিজেদের পরিবেশ নিজেদের রক্ষা করতে হবে, নিজেদের ঘর যদি নিজেরা গুছিয়ে না রাখি তাহলে ঘরটা ময়লা হয়ে যায়।

ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের দিকে খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাছের চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না, আমি অনুরোধ করব স্থানীয়সহ যারা চারা রোপণ করলেন তারা সবাই মিলে গাছগুলোর যতœ নেবেন।

তিনি বলেন, সুন্দর প্রবহমান গুরুত্বপূর্ণ সাগরদী খালের যতœ করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, এর দুইপাশে যত মানুষ আছে তাদেরও সবাইকে এ খালের যতœ করতে হবে।

খালের ভেতর পলিথিনসহ অনেক বোতল ভেসে আসে বিভিন্ন সময়, আপনারা যারা স্থানীয় রয়েছেন তারা খালের ভেতরে নিজেরা কিছু ফেলবেন না, আর অন্যদের ফেলতেও বারণ করবেন। সিটি করপোরেশনের বিন রয়েছে তার মধ্যে যেন পানির বোতল, টিস্যু ফেলতে হবে, এজন্য সিটি করপোরেশনকেও প্রচারণা চালাতে হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ধরে বরিশালের গৌরনদীর ভূরঘাটা এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বরিশাল সফর। এ সময় তার গাড়িবহরকে বরিশাল জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে বরিশাল নগরের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সড়কের দুইপাশে থাকা মানবপ্রাচীর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বেলা ২টায় বরিশাল শহরের বান্দরোডে এসে পৌঁছায়।

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সাথে মতবিনিময়

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না।’

গতকাল সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নারীদের ডেকে জানতে চান, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?’

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি।

আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এ রকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরো অনেক পরিবার আছে, যারা এখনো কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারা দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।

সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সঙ্কট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরো সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান।

তিনি তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।