সিরিজ জিতে তিনে উঠার প্রত্যাশা মিরাজের

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়া দলটি কয়েক দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। গল্পের পরের অধ্যায়টা হতে পারে আরো বড়-অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়, কিংবা আরো এক ধাপ এগিয়ে ধবলধোলাই। মিরাজদের স্বপ্ন অন্তত সে দিকেই! আগামী ২২ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ জিতলে শুধু সিরিজই জিতবে না, সেটি শান্ত বাহিনীর হবে ‘বাংলাওয়াশ’।

ডারউইনে ৯ উইকেটের জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমনিতেই বিরল এক অধ্যায়। সেই জয়ের পরও উদথযাপন থামিয়ে রাখতে চাইছে না দল। কারণ আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়য়ে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে জয় এলেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতবে বাংলাদেশ। একই সাথে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও ৩ নম্বরে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে। ডারউইনে যে ইতিহাসের দরজা খুলেছে, ম্যাকয়তে সেটি পুরোপুরি খুলে দেয়ার অপেক্ষা বাংলাদেশের। আর সেই বড় স্বপ্নের কথা প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিলেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরাজের কথায়, ‘অবশ্যই আমরা সেভাবেই সিরিজ জয়ের কথা ভাবছি এবং যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি, সেটাতেই মনোযোগ ধরে রাখতে চাই। প্রথম ম্যাচ জেতার পর আমাদের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে টেস্ট ম্যাচ জেতা কখনোই সহজ নয়। এ মুহূর্তে আমরা শুধু এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। পরের ম্যাচ নিয়ে পরে পরিকল্পনা করব।’

মিরাজের স্বপ্ন, বাস্তবতার সিঁড়ি

স্বপ্নটা বড়। আর বড় স্বপ্ন দেখার সাহসও এখন বাংলাদেশের আছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় এসেছে, তাও আবার নয় উইকেটের দাপুটে ব্যবধানে। ডারউইনের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজের চোখ এখন আরো দূরে সিরিজ জয়, আর সেই সাথে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে আরো ওপরে ওঠা। মিরাজের চাওয়া, বাংলাদেশ যেন শেষ পর্যন্ত উঠে আসে ৩ নম্বরে।

অসম্ভব নয় আবার সহজও নয়

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বড় একটি ধাপ পেরিয়েছে। প্রথম টেস্টের জয় বাংলাদেশকে ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্টে নিয়ে গেছে এবং পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠিয়েছে। সামনে তৃতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট শতাংশ ৭২.২২; অর্থাৎ ব্যবধান আছে, কিন্তু সেটি পাহাড়সম নয়।

তবে হিসাবের খাতায় শুধু একটি জয় যথেষ্ট নয়। দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ যদি ২-০ ব্যবধানে জেতে, তাহলে আরো ১২ পয়েন্ট যোগ হবে। সেটি বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্ত করবে। কিন্তু তৃতীয় স্থানে উঠতে হলে অন্য দলগুলোর ফলও বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে। কারণ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শুধু মোট পয়েন্ট নয়, ম্যাচপ্রতি অর্জিত পয়েন্টের শতাংশই মূল বিবেচ্য।

আত্মবিশ্বাসটা কাগুজে নয়

সবচেয়ে বড় আশার জায়গা হলো, বাংলাদেশ এখন শুধু হিসাবের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। মাঠেও তার প্রমাণ দিয়েছে। ডারউইনে মিরাজ ব্যাট হাতে ৬৫ রান করেছেন, পরে বল হাতে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই বলে দেয়, আত্মবিশ্বাসটা এখন আর কাগুজে নয়। তাই মিরাজের স্বপ্নকে কল্পনা বলা যাবে না; বরং বলা যায় স্বপ্নটি এখন বাস্তবতার দরজায় দাঁড়িয়ে। দরজাটা খুলতে প্রয়োজন আরো একটি জয়। আর সেই জয় এলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটও উঠে যাবে নতুন উচ্চতায়।

দলগত সাফল্য

ডারউইনে বাংলাদেশের জয়ে মিরাজের অবদান ছিল দুই দিকেই। প্রথম ইনিংসে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার পর বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে নেন পাঁচ উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন হাসান মাহমুদ, দুই ইনিংসে তার শিকার ৯ উইকেট। তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ১০১ রান, অধিনায়ক শান্ত করেছেন ৮৪; অর্থাৎ একক কোনো পারফরম্যান্স নয়, দলগতভাবেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ।

ড্রেসিংরুমে জমাট বিশ্বাস

এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় গল্পগুলোর একটি অবশ্য ডারউইনের টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সফরের শুরুতেই এমন ধাক্কা দেখে বাইরে থেকে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ড্রেসিংরুমে সেই বিশ্বাস হারায়নি; বরং ব্যক্তিগতভাবে ছন্দহীন থাকা মিরাজও পেয়েছিলেন টিম ম্যানেজমেন্টের সমর্থন।

নাফীস ইকবালের কাছ থেকে পাওয়া সেই সাহসের কথা নিজেই জানিয়েছেন মিরাজ, ‘আমি যখন নিজেই সংগ্রাম করছিলাম, তখন আমাদের টিম ম্যানেজার, নাফীস ইকবাল, আমাকে এই কন্ডিশনে কিভাবে খেলতে হবে, সে বিষয়ে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। মানসিকভাবে আমি খুব ভালো অনুভব করছিলাম এবং তার সাথে অনেক কথা বলেছি। একপর্যায়ে তিনি নেটে আমাকে বোলিংও করেছেন।’

মুশতাকের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ

প্রস্তুতি ম্যাচের পর দলের ভেতরের বিশ্বাস ধরে রাখতে স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন মিরাজ। হারের পর হতাশার বদলে তিনি ক্রিকেটারদের সামনে রেখেছিলেন বিশ্বাসের বার্তা। সেই বিশ্বাসই কয়েক দিনের ব্যবধানে রূপ নেয় অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আত্মবিশ্বাসে, ‘মুশতাক আহমেদের কথাও বলতে চাই। প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর তিনি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছে গিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বাস রাখো। তুমি যদি বিশ্বাস করো, তাহলে জয় সম্ভব, আর বিশ্বাস তোমাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।’ সেই ছোট ছোট বিষয় থেকেই আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি। আর সেটার ফল দেখতে পাচ্ছেন।’