সুন্দরগঞ্জে ৭০ শতাংশ রাস্তা কাঁচা, বর্ষায় চরম দুর্ভোগ

Printed Edition
সুন্দরগঞ্জের একটি এলাকার কাঁচা রাস্তার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত
সুন্দরগঞ্জের একটি এলাকার কাঁচা রাস্তার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

রেজাউল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ রাস্তা এখনো কাঁচা। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই এসব রাস্তা কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও রিকশা-ভ্যানচালকরা।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমেছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তখন পথচারীরা জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে কাদার মধ্য দিয়ে হেঁটে পথ চলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক রাস্তা পাকা করা হয়নি। বিভিন্ন নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়ন হয় না।

তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামের কলেজ শিক্ষক নুর মিয়া বলেন, ৫৫ বছর ধরে বাড়ির সামনের রাস্তা পাকা হওয়ার কথা শুনে আসছি। কিন্তু আজও তা হয়নি। শান্তিরাম ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম লাবলু বলেন, তাদের ইউনিয়নের প্রায় ৯৫ শতাংশ রাস্তা কাঁচা। দীর্ঘদিন ধরে এসব রাস্তায় দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ।

তারাপুরের নিজাম খাঁ গ্রামের রিকশাচালক সামাদ মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তায় রিকশা-ভ্যান চালানো যায় না। তখন আয় বন্ধ হয়ে যায়, ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী দফতর সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জে বর্তমানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব রাস্তার উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী দফতর থেকে কাঁচা রাস্তার তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন তিনি। মন্ত্রী পর্যায়ক্রমে এসব রাস্তা পাকা করার বরাদ্দ দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন। শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে সব কাঁচা রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেয়া হোক। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও গতিশীল হবে।