১১ দলের লংমার্চে জনতার ঢল

আমাদের লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমাদের দাবি স্পষ্ট। জনগণ গ্যাসসঙ্কট, বিদ্যুৎসঙ্কট, পানিসঙ্কটে ভুগছে। কিন্তু তারপরও বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। মঞ্চে উপবিষ্ট জোটের বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ / লংমার্চ শেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিশাল গণজমায়েত : নয়া দিগন্ত
১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। মঞ্চে উপবিষ্ট জোটের বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ / লংমার্চ শেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিশাল গণজমায়েত : নয়া দিগন্ত

  • অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে : ডা: শফিক
  • মানুষ বলছে আর কখনো বিএনপিকে ভোট দেবো না : অলি আহমদ
  • প্রয়োজনে ঢাকায় আরো বড় কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে : নাহিদ ইসলাম
  • ৭০ শতাংশের রায় নিয়ে বিভ্রান্ত করা যাবে না : মামুনুল হক

১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমাদের দাবি স্পষ্ট। জনগণ গ্যাসসঙ্কট, বিদ্যুৎসঙ্কট, পানিসঙ্কটে ভুগছে। কিন্তু তারপরও বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সঙ্কীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ শুরুর আগে রাজধানীর শাপলা চত্বরে গতকাল সকাল ৭টায় উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এতে আরো বক্তৃতা করেন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া, আতিকুর রহমান মুজাহিদ এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন আহমদ, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো: সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কর্নেল (অব:) হাসিনুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়।

এ সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বলেছেন, আমার ৮৮ বছর বয়সে আমি কখনো শুনিনি, একটা সরকার গঠন হওয়ার পর লোকে বলে এই সরকার টিকবে না। মানুষ এটা কখন বলে? সারাক্ষণ দেখছি নারীরা, পুরুষেরা নিজের জুতা নিজের কপালে মারছে, বলছে আর কখনো বিএনপিকে ভোট দেবো না। তিনি বলেন, দেশ ভালো চালানোর জন্য ঈমানদার লোকদের বেছে নিতে হবে। বেইমান, মুনাফেক আর বিদেশী দালালদের দিয়ে দেশ চলবে না। ১১ দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রথম রাউন্ড শেষ করেছি, দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু। এখনো বসে আছেন, সঠিক পথে চলেন। না হলে অন্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পলায়ন করেছে, তাদের পথ আপনাকে অনুসরণ করতে হবে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এ লংমার্চ আপামর জনতার। সরকার যদি লংমার্চে বাধা দেয় তাহলেও সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে এবং ১১ দলের ৬ দফা দাবি এক দফা রূপ নেবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটের রায় বানচালের চেষ্টা করলে জনগণের হাতে লালকার্ড আছে। তিনি বলেন, হাসিনাকে জনগণ ছক্কা পিটিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারেক রহমান সাহেব, আপনিও যদি একই পথে হাঁটেন, আপনার মুখপাত্রকে দিয়ে যদি বারবার গণভোটকে অবৈধ প্রমাণের অপচেষ্টা করে যান, আপনার অবস্থাও ভিন্ন কিছু হবে না। তিনি বলেন, আপনারা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দিচ্ছেন। মনে রাখবেন, এর মাধ্যমে যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গণভোটের রায়কে বানচাল করতে চান, মনে রাখবেন- জনগণের হাতে লালকার্ড আছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। জনগণকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

নারায়ণগঞ্জে পথসভা : লংমার্চের যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের পথসভায় জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। চব্বিশের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য। জনগণের চুলায় গ্যাস পৌঁছে দেয়ার জন্য। জনগণের ঘরে বিদ্যুতের বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য। এই সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে, ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ১১ দল জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জনগণের সাথে আছি, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সফল হবো। এই লংমার্চ শেষ নয় শুরু।

জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা আবদুল জাব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব:) অলি আহমদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

কুমিল্লা : কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে অনুষ্ঠিত পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেন, কুমিল্লাসহ সারা দেশের মানুষ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সঙ্কটে ভুগছে। আমরা জনগণের এ সমস্যা সমাধানে রাস্তায় নেমেছি। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল ১৯৯৪ সালে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের উদ্দেশে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। পাশের কোনো জেলার যদি দাবি থাকে, তাদেরও দিয়ে দেন। কুমিল্লা বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।

জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা: শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার অনেক কথা দিয়েছিল। তারা সেগুলো রাখেনি, প্রতারণা করেছে। কুমিল্লায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতি এখনো রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেদিকে খেয়াল নেই। দেশ মাদকে ভরে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলা ও বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারছে না। আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আশাবাদী জনতার বিজয় হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা সব দাবি আদায় করব ইনশাআল্লাহ। জনতা আমাদের সাথে আছে, আমরা গন্তব্যে পৌঁছব।

এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম পথসভায় বলেন, দেশ চাঁদাবাজি, খুন রাহাজানিতে ভরে গিয়ে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে।

সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, আমাদের এই লংমার্চ কর্মসূচি গভর্নমেন্টের ওপরে একটা চাপ সৃষ্টি করেছে এবং সরকার কিছুটা হলেও চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এই আন্দোলনের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ বা আমাদের আজকের যে আন্দোলনের ভেতরে আমরা আছি, সংসদে এবং সংসদের বাইরে- এই মুহূর্তেই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকার পদত্যাগের এটা কোনো আন্দোলন নয়।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, লংমার্চে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। মানুষ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করছে। সরকার ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের সন্তানরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িত। তারা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। ছয় দফা আদায়ে প্রয়োজনে শিগগিরই ঢাকায় আরো বড় কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের রায়কে উপেক্ষা করলে জনগণ সরকারকে প্রত্যাখান করবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবে জনগণ। এই ছয় মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দিয়ে জনগণের ম্যান্ডেট ও গণরায় কেনা যাবে না। জনগণের রায় বাস্তবায়নে বাধা দেয়া হলে চলমান আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, জনতার মিছিল বাড়তে বাড়তে টেকনাফ থেকে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে, সেই গণস্রোতে সরকার ভেসে যেতে বাধ্য হবে। সরকারকে তিনি বলেন, জনগণের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়েছেন। দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে আমরা তা মেনে নিয়েছি। কিন্তু যদি ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের সাথে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন, আপনাদের পরিণামও ওইসব ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো হবে। এ দেশের মানুষ আপনাদের লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হবে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অনেকেই বলে, আমরা কেন এত টাকার তেল খরচ করে লংমার্চে যাচ্ছি। আমরা আজকে বলবো সরকারের গদি নড়ে গেছে। সরকার কী টের পাচ্ছে? সবাই মাঠে থাকবেন। আমরা সরকারকে বলব, ছয় দফা দাবি মেনে নিন। যদি দাবি না মানেন, তাহলে ছয় দফা এক দফাতে রূপান্তর হবে। সেই দফা হলো সরকারের পদত্যাগ।

‘দেশের মানুষ সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায়’

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান মিরসরাইয়ের পথসভায় বলেছেন, দেশের মানুষ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায়। সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া কথা রক্ষা করেনি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর মিরসরাই উপজেলা আমির মাওলানা নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে ও মিরসরাই পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা শিহাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন মাওলানা গোলাম পরওয়ার, এনসিপির এমপি আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন সিকদার, সেক্রেটারি আব্দুল জাব্বার, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানসহ আরো অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: শফিকুর রহমান নেতাকর্মী ও জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কি গ্যাস বিদ্যুৎ সার চান? আপনারা কি আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন চান? ২৪-এর গণহত্যার বিচার চান? আপনারা কি হাদি হত্যার বিচার চান? শাপলা চত্বর গণহত্যার বিচার চান? পিলখানায় সেনাকর্মকর্তা হত্যার বিচার চান? চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চান? এসব কি বর্তমান সরকার বন্ধ করতে পারবে? তারা যদি বন্ধ করতে না পারে আমরা এসব বন্ধ করব।

এ দিকে লংমার্চের গাড়ির বিশাল বহরে স্থবির হয়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন। শত শত গাড়ির বহর মিরসরাই বাজার অতিক্রম করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে : লালদীঘির জনসমুদ্রে ডা: শফিকুর রহমান

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশপ্রেমিক এগারদলীয় ঐক্যের প্রথম লংমার্চ এটি। আজকের এই লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য, বাকি লংমার্চগুলো এমন হবে না। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম এই ৬ দফার একটিও এগারদলের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের জন্য। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, জনগণের সাথে দেয়া সমস্ত ওয়াদা লঙ্ঘন করছেন। এখন পর্যন্ত আঙুল আমাদের সোজা, প্রয়োজনে বাকা হবে। আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করেছেন। গণভোটের গণরায় অস্বীকার করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন, গাদ্দারি করেছেন। ৭০ ভাগ জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে, আমরা আদায় করেই ছাড়ব। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে, এর সাথে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। অপরাধী, চাঁদাবাজ, লুণ্ঠনকারী, দুর্নীতিবাজরা হেরে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের আয়োজন করা হয় আন্দোলন সংগ্রামের সুতিকাগার চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

বাংলাদেশ লিবারেল ডেমেক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল অব: অলি আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে লালদীঘির সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব: হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, জামায়াতের নায়েবে আমির সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমীন, চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, ’২৪-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা খান তালাত মাহমুদ রাফি প্রমুখ।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আন্দোলন, সংগ্রাম, স্বাধীনতার সুতিকাগার এই চট্টগ্রাম থেকেই শুরু হলো। আগের সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। তারা ওয়াদা দিয়েছিলেন, জাতির সামনে সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশ চালাবেন। যাদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে তারা কি নির্বাচিত প্রতিনিধি?

বর্তমান সরকারি দল ও আমরা নির্বাচনের আগে সকলেই বলেছি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়াার জন্য। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি কি তাদের কথা রেখেছে? সঙ্কট তারাই তৈরি করেছে।

আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, অনির্বাচিত সরকারের সময় দেশের অবস্থা যা ছিল, সেই অবস্থা কি এখন আছে। গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, সার নাই, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, সরকারি দলের লোকেরা সন্ত্রাসে চুরি-চামারিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ধরা পড়ার পর দেখা যাচ্ছে সবগুলোই বিএনপির লোক।

আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম বিভিন্ন জায়গায় চর্মরোগ দেখা দিয়েছে, তাদের হিস্টাসিন খাওয়াতে হবে।

ডা: শফিক বলেন, চট্টগ্রামের একজন মেয়র আছেন, তার কি মেয়াদ আছে? তাহলে তাকে আমরা কি বলব? মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র। কিন্তু এখন নাকি তার মেয়াদ অনির্দিষ্ট, এটা কি ফ্যাসিবাদ নয়?

যারা গুম হয়েছে, খুন হয়েছে তাদের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা কি নেই? তিনি সমবেত জনতাকে প্রশ্ন রাখেন- শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২৪-এর আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, আয়নাঘর যারা তৈরি করেছিল তাদের বিচার চান? আমরা সেই বিচার আদায় করে ছাড়ব।

সভাপতির বক্তৃতায় ড. কর্নেল অব: অলি আহমদ বলেন, বর্তমানে দেশে বাকশালের চাইতেও খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। সব জায়গায় অনির্বাচিত প্রশাসকদের বসিয়েছে। দুদক থেকে সৎ অফিসারকে সরিয়ে দেয়ার পেছনে কারণ কি? তিনি আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, যে স্বপ্ন পুরণের জন্য সহস্র মায়ের বুক খালি হয়েছে সেটি ছিল ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার। ক্ষমতায় এসে বিএনপি সহস্র শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করেছে। গণভোট শুধুমাত্র ছেলে ভোলানোর খেলনা ছিল না, এটি একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার। বিএনপি আজকে আত্মস্বীকৃত মোনাফিকের দলে পরিণত হয়েছে। তারা গাদ্দারি করতে পারেন, আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। এই গণসমুদ্র থেকে ঘোষণা দিতে চাই, এই আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। এই লংমার্চ সরকারের প্রতি সতর্ক সঙ্কেত দেয়ার জন্য। এদেশের মানুষ আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষ, ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায়কে নিয়ে তামাশা করা হলে আবার মানুষ রাজপথে নামবে।

নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ঐতিহাসিক লংমার্চ চট্টগ্রামে এসে সফলভাবে পৌঁছায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। মানুষের অভুতপূর্ব সাফল্য দেখেছি। স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া সমস্যা নিয়ে আমরা নাকি অরাজকতা করছি, সেটা যদি সমাধান করতে না পারেন- আপনি স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া সমস্যার সমাধান দিতে পারছেন না সেটা স্বীকার করুন। আপনার কোন প্ল্যান নাই সেটা স্বীকার করুন। নতুন কাউকে স্বৈরাচার হতে আমরা দেব না। আপনি যদি প্রথমেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে আপনি জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন। জনগণের নির্বাচিত এমপিদের কাজ করতে দিচ্ছেন না। সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছেন। সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের মূল হোতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে সংবিধান সভা তৈরি করুন, বিরোধীদলকে উপযুক্ত স্পেস দিন। পতিত স্বৈরাচার আসলে আপনি রক্ষা পাবেন না। সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার করুন, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিত করুন। আমরা এই অধিবেশনে এখনো সংসদে আছি, পরের অধিবেশনে যাব কি না সেটা পরিস্থিতি বলবে। জনগণের সাথে প্রতারণার ফল আপনাদের ভুগতে হবে।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, তারেক রহমানকে বলতে চাই গ্যাসে, বিদ্যুতে লুটপাট চাঁদাবাজির মধ্য দিয়ে আপনারা লুটপাট শুরু করেছেন, অরাজকতা শুরু করেছেন। যে অরাজকতা আপনারা শুরু করেছেন।

সেটা থেকে মুখ ফিরানোর জন্য বিরোধী দলের দিকে অভিযোগ করছেন। যে দল মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি ঘোষণা দিয়ে বালুর ট্রাক সরাতে পারেনি, ব্যর্থ সরকারের থেকে নসিহত নিয়ে আমাদের রাজনীতি করতে হবে না। ২৪ এর লংমার্চ ছিল স্বৈরাচারের মসনদ ভাঙার লংমার্চ, ২৬ এর লংমার্চ বাংলাদেশ গড়ার লংমার্চ।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা অনেক হুমকি-ধমকির কথা শুনেছিলাম। পথে পথে জনতার সমুদ্র প্রমাণ করেছে, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে এই সরকারকেও জনগণ ছাড়বে না। যারা নতুন করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে, চট্টগ্রাম থেকে এই যাত্রা তাদের বিরুদ্ধে নতুন মাত্রা দেবে।

শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অবজ্ঞা করেছেন। তিনি বলেন- তেল দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছাইড়া দে। আমরা ভেবেছিলাম তাদের প্লান জনগণের জন্য। কিন্তু কলকারখানা বন্ধ করে চাকরি খাওয়ার প্ল্যান তারা করছে। জনগণ রাজপথে নেমে তাদের দাবি আদায় করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের সঙ্কট নেই, আপনারা কী বলেন? এ সময় সমবেতরা বিদ্যুৎমন্ত্রীর প্রতি ধিক্কার জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা কেন লংমার্চ করছি তা নিয়ে প্রশ্ন করছে, তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই বিএনপির ভাইবোনদের ঘরে গ্যাস-বিদ্যুতের সঙ্কট সমাধানে আমরা লংমার্চ করছি। তারেক রহমান আমরা আপনার কাছে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য, যারা ১৪ শ’ খুনের সাথে জড়িতদের দেশে এনে ফাঁসিতে ঝুলানোর জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেটি জানতে চাই। ৬ দফা কড়ায় গণ্ডায় আদায় করা হবে। যদি ৬ দফা না মানেন সেটা পরিণত হবে এক দফায়। সবাইকে লড়াইয়ের জন্য ঢাকায় যেতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

এ বি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই লংমার্চকে স্বাগত জানিয়েছেন। গণভোটের ম্যান্ডেট সরকার তার স্বার্থের কারণে গ্রহণ করছেন না। আমরা একটা চুক্তি করেছিলাম বাংলাদেশে আর কোনো গুম খুন হবে না, ক্যাম্পাসে হল দখল হবে না, আর কোনো নারী নির্যাতন হবে না। কিন্তু ক্ষমতায় বসে তারা সব ভুলে গেছেন। যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, আমরা প্রত্যেকে ওসমান হাদি হবো।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ২৪-এর আগস্টে ব্যাপক রক্তপাতের বিনিময়ে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, বাংলাদেশের জনগণ স্বপ্ন দেখেছিল রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার হবে। দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছে। নির্বাচনের আগে যে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পাগলপারা হয়েছিল, সেই বিএনপির ‘সর্ব বিষয়ের মন্ত্রী’ পবিত্র সংসদের ফোরে দাঁড়িয়ে বলেছেন, নির্বাচন আদায়ের জন্যই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলাম। তার এ বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। জনগণের অধিকার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা দু’টি ভোট দিয়েছিলাম। একটি ভোট গণভোটে, আরেকটি ভোট প্রতীকে। কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা ছিলাম আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল, রাষ্ট্রের সংস্কার। ঐকমত্য কমিশনে সবাই স্বাক্ষর করেছি জুলাইসনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব। সালাহউদ্দিনের কূটকৌশলে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরে তারা জনগণের সাথে সব অঙ্গীকার ভুলে গেছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক বলেন, চাঁদাবাজি কোথাও বন্ধ হয়নি। নিরীহ লোকজন থেকে চাঁদাবাজি করেন, আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত। লন্ডনের লোক দিয়ে আমাদের লন্ডনি বানাতে পারবেন না। যারা ক্ষেতে রাত কাটিয়েছে তাদের আপনি কাছে টানেন। সরকার গুম অধ্যাদেশ নিয়ে যা করছে তা আবারো গুম করার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে ৪৯ শতাংশ ভোট নিয়ে আর ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা। জনগণের মতামত ও গণরায়কে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সমাবেশের ফাঁকে ফাঁকে ঢাকার সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রামের দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ গান ও নাটিকার তালে সরকারের নানা ব্যর্থতা তুলে ধরেন।