হাসপাতালে স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী চিকিৎসকদের পদায়নে অসন্তোষ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত সাড়ে ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধা নেয়া এবং জুলাই আন্দোলনের সময় বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ থাকা চিকিৎসকরা নতুন করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিপরীতে ওই সময়ে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত বা আন্দোলনকারীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখা চিকিৎসকরা এখনো পদায়ন থেকে দূরে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী ঘরানার চিকিৎসকদের অনেকে। এ নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি) ঘিরে এ আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, ডা: জাফরীন জাহান নামে এক চিকিৎসককে গত ৩০ মার্চ এনআইসিভিডিতে বদলি করা হলেও তিনি দীর্ঘদিন সেখানে যোগ দিতে পারেননি। পরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে তিনি যোগদান করেছেন এবং তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য কক্ষ ও ইউনিট দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্যেষ্ঠ না হয়েও রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডা: জাফরীন জাহান পদোন্নতি পেয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তিনি সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন বলে তারা দাবি করেন।

এনআইসিভিডির এক চিকিৎসক বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত ভূমিকার অভিযোগ থাকা কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেয়া হলে চিকিৎসকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এক চিকিৎসকও বিষয়টিকে ‘দৃষ্টিকটু’ বলে মন্তব্য করেন।

তাদের আরো অভিযোগ, ৩ আগস্টের একটি সমাবেশে ডা: জাফরীন জাহান অংশ নিয়েছিলেন এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরনো পোস্টেও আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থানের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে ডা: জাফরীন জাহানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনআইসিভিডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা: মাহমুদুল্লাহ ফিরোজ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিদেশে থাকা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা: আব্দুল ওয়াদুদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরিচালকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে জাতীয় কিডনি হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা: মোর্শেদুল আলমের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এনআইসিভিডিতে বদলি হয়ে আসার চেষ্টা করছেন বলে চিকিৎসকদের একটি অংশ দাবি করেছে। তবে এখনো তিনি সেখানে যোগ দেননি।

অন্য দিকে জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখা স্পাইন সার্জন অধ্যাপক ডা: শহীদুল ইসলাম আকন্দকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসকদের অনেকে। তাদের দাবি, কুর্মিটোলা হাসপাতাল মেডিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না হওয়ায় এতে তার শিক্ষকতার সুযোগও সীমিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী নির্যাতনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: শাহেদা আনোয়ার, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ডা: হাবিবুর রহমান দুলাল এবং হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সালাহউদ্দিন শাহের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা: মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে চাকরিচ্যুত করা হলেও, সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর কারণ হিসেবে দুই বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে; রাজনৈতিক ভূমিকার অভিযোগকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়নি।