চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার দেওদীঘিতে ইসলামিক মিশন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার এঁওচিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামিক মিশন বিভাগের অধীনে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। মাদার্শা, এঁওচিয়া, কাঞ্চনাসহ সংলগ্ন এলাকার কোনো নারীর গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ ডেলিভারি কিংবা শিশু ও বযস্কদের তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কোনো ব্যবস্থা নেই। সে বিবেচনায় এ এলাকার মিলনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত দেওদীঘিতে ইসলামিক মিশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ দেয়া হবে এবং দ্রুততম সময়ে ভবন নির্মাণ শুরু হবে।
ইসলামিক মিশনের বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এ হাসপাতালে একজন এমবিবিএস ডাক্তার, এজজন নার্স, একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও একজন কম্পাউন্ডার থাকবেন। পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ করা হবে। মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র পাওয়া যাবে। এখানে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে। এছাড়া এ মিশনের অধীনে চতুর্দিকে ১০টি মসজিদে সকালে কুরআন শিক্ষা দেয়া হবে। এখানে একটি মাতৃসদন স্থাপনের পরিকল্পনা কথা জানান উপদেষ্টা।
ড. খালিদ বলেন, আগামী মাসে নির্বাচন, যারা নির্বাচিত হবেন তাদের কাছে আমরা ক্ষমতা হস্তান্তর করব। আমি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে না থাকলেও আমার হাতে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) উন্নয়নে আজীবন চেষ্টা করে যাব। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান। হ্যাঁ ভোটে সিল মারলে পরিবর্তন আসবে।
ড. খালিদ আরো বলেন, যতদিন দায়িত্বে ছিলাম রাত-দিন পরিশ্রম করেছি। গত ১৮ মাসে দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি হাসপাতালটিকে পূর্ণতা দানে সবার দোয়া কামনা করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ: ছালাম খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে ইফার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো: তৌহিদুল আনোয়ার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বক্তৃতা করেন।
পরে উপদেষ্টা উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের বাবুনগরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত বোর্ড হতে দেয় দুস্থ-অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে জাকাতের চেক তুলে দেন। এছাড়া বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাস্তুল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে স্বাবলম্বী প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছাগল বিতরণ করেন।
শেষে উপদেষ্টা নুরে হাবিব ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ, পথশু চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এলাকার শীতার্ত গরিব-দুঃখী মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন।



