তুহিন আহামেদ আশুলিয়া (ঢাকা)
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরানী বাজারে বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে প্যাথলজি ও এক্স-রে বিভাগ। রয়েছে চিকিৎসক সঙ্কটও। ফলে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। এরই মধ্যে হাসপাতালের ছাপানো টিকিটও শেষ হয়ে গেছে। প্যাডে সিল মেরে টিকিট বিক্রি করছেন আগত রোগীদের কাছে। তবে খুব শিগগিরই এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
সম্প্রতি আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে এ সব তথ্য জানা যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩০ শয্যার একটি হাসপাতালে সহকারী পরিচালক একজন। জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা চারজন, আছে মাত্র একজন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার একজন, সহকারী সার্জন থাকার কথা দুইজন, আছে একজন, ডেন্টাল থাকার কথা একজন। অথচ নেই। ফলে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা কাক্সিক্ষত চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকা হওয়াতে এখানে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়ন, ধামসোনা, ইয়ারপুর, পাশের উপজেলা ধামরাই ও কালিয়াকৈর থেকে শত শত মানুষ মাত্র পাঁচ টাকা টিকিট মূল্যে একজন ডাক্তার দেখাতেন এবং চিকিৎসা নিতেন। বিভিন্ন ধরনের ওষুধও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে ওষুধের ঘাটতি, ডাক্তার সঙ্কট, প্যাথলজি বন্ধ ছয় মাস, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে বিভাগ। ওষুধ সঙ্কট, চিকিৎসক সঙ্কট, পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়ায় রোগী একজনও ভর্তি থাকে না ৩০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, হাসপাতাল চিকিৎসক নেই। কোনো টেস্ট করতে পারি না। বেশি টাকা দিয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হয়। এতে অর্থের ক্ষতি ও ভোগান্তিও হয়। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের কারণে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। হাসপাতালের টিকিট মাস্টার মোর্শেদ আলম জানান, হাসপাতালের ছাপানো টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তাই বিভিন্ন প্যাডে সিল মেরে টিকিট বিক্রি করছি।
হাসপাতালের স্টোর কিপার আলী আকবর মিয়া জানান, হাসপাতালটি এখন সরকারি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। তাই কোনো কিছু কেনাকাটাও সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া টেকনোলজিস্ট ও রিএজেন্ট না থাকায় এক্স-রে বিভাগ এবং প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতালের এডমিন সহকারী অধ্যাপক ডা: মাজহারুল আলম জানান, যে সমস্যাগুলো রয়েছে তার মধ্যে বাজেট সমস্যা এবং লোকবল সমস্যা। যে কারণে এখানে পরিপূর্ণ সেবাদানে কিছুটা সমস্যার তৈরি হয়েছে। বাজেট সমস্যা এবং লোকবল সমস্যার কারণে রোগীরা ইনডোর সার্ভিস ও মেডিসিন সার্ভিস এবং অন্যান্য সেবা পাচ্ছে না। হাসপাতালটি একটি প্রজেক্টের আওতাধীন ছিল, প্রজেক্ট থেকে এখন রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য সাময়িক এই সমস্যা আমাদের ফেস করতে হচ্ছে।



