মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনে সামরিক শাসন আরো দৃঢ় হওয়ার আশঙ্কা

নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা তাদের নেতারা কারাগারে রয়েছেন

Printed Edition
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে মিয়ানমারের ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সমর্থকরা নৃত্য পরিবেশন করছেন : ইন্টারনেট
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে মিয়ানমারের ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সমর্থকরা নৃত্য পরিবেশন করছেন : ইন্টারনেট

টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মিয়ানমার সরকার ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের শুরুতে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন। তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, এই নির্বাচন প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে না, বরং সামরিক শাসনকে আরো দৃঢ় করবে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং অং সান সু চি ও তার দলের নেতাদের গ্রেফতার করে। এরপর থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলেছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সামরিক সরকার বলছে, আসন্ন নির্বাচন দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তারা দাবি করছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্য। তবে বাস্তবে অনেক বিরোধী দল নিষিদ্ধ বা তাদের নেতারা কারাগারে রয়েছেন। অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) কার্যত রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, সেনাবাহিনী নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। নতুন নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সেনাবাহিনী-সমর্থিত দলগুলোই সুবিধা পাবে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী কমিশন সম্পূর্ণভাবে সামরিক সরকারের অধীনে রয়েছে। ফলে এই নির্বাচনকে অনেকেই ‘প্রহসন’ হিসেবে দেখছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, মিয়ানমারের নির্বাচন যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক না হয় এবং বিরোধী দলগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়া হয়, তবে তা বৈধতা পাবে না। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদও বলেছে, মিয়ানমারের জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত না হলে নির্বাচন কেবল সামরিক শাসনকে আরো দীর্ঘায়িত করবে।

অন্য দিকে, সামরিক সরকার তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তারা বলছে, নির্বাচনই দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথ। সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা জনগণকে তাদের প্রতিনিধি বেছে নেয়ার সুযোগ দেব।’ তবে বিরোধীরা মনে করছে, এই নির্বাচন কেবল সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বৈধ করার একটি কৌশল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের সঙ্কটের সমাধান কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছাড়া নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে না। অন্যথায় এটি সামরিক শাসনকে আরো দৃঢ় করবে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষাকে ব্যর্থ করবে।