টি-২০ তেও উজ্জীবিত টাইগাররা

Printed Edition
টি-২০ সিরিজের ট্রফি হাতে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ অধিনায়ক : নয়া দিগন্ত
টি-২০ সিরিজের ট্রফি হাতে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ অধিনায়ক : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। তারপরও এই কিউইরা বাংলাদেশকে প্রথম ওয়ানডেতে হারিয়েছিল। পরে অবশ্য স্বাগতিক দল ঘুরে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করেছে ২-১ এ সিরিজ। টি-২০তেও সফরকারি দলটা একই রকম খর্বশক্তির থাকলেও বাংলাদেশ দল ভীষণ সতর্ক। ওয়ানডে জিতে উজ্জীবিত টাইগাররা। তবে ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়েই আজ সিরিজের প্রথম টি-২০ তে মাঠে নামবে টাইগার স্কোযাড। দমে যাওয়ার পাত্র নয় কিউইরা। ওয়ানডের ক্ষত শুকাতেই নিংড়ে দিবে সবকিছু। চট্টগ্রামের সাগরিকায় ফলাফল পক্ষ নেয়ার ব্রতে আজ বেলা ২টায় মুখোমুখি হবে উভয় দল।

টি-২০ অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের সাথে মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড পরবেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তার লক্ষ্যের সবটা এখন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপকে ঘিরে। বিসিবি মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রথমবার লিটনের নেতৃত্বে টি-২০ সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। নিজেদের লক্ষ্য, দলের অবস্থা, পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, ‘আমাদের আসল লক্ষ্য বিশ্বকাপ। শেষ বিশ্বকাপেও (২০২৬) ভালো প্রস্তুতি ছিল। নানা কারণে হয়নি। চেষ্টা করব দলটাকে যেন সেখান থেকেই ভালো করে ধরে রাখা যায়। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজের সূচনা দিয়েই পথচলা শুরু। এখান থেকেই শুরু করতে চাই।’

ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করলেও টি-২০তে রাখা হয়নি মোস্তাফিজুর রহমান-নাহিদ রানাদের। আপাতত বিশ্রাম দেয়া হয়েছে এই দু’জনকে। এই প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘বোলারদের জন্য খুবই সহজ ব্যাপারটা, রোটেট করে খেলানো। তারা বাংলাদেশের বড় সম্পদ। আমি চাই না তারা টানা ক্রিকেট খেলে চোটে পড়ে শেষ হয়ে যাক। সামনে আমাদের ওয়ানডেতে অনেক খেলা আছে, টেস্টেও আছে। এ দিক দিয়ে চিন্তা করেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

চট্টগ্রামের স্টেডিয়ামের কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু টি-২০ সিরিজের উইকেট নিয়ে মুখে কুলুপ আটলেন। তার বাংলাদেশ অধিনায়কের আশা, ভালো উইকেটই থাকছে। ‘উইকেটটা দেখেছি। দুই দলের জন্যই সমান থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না খেলা হচ্ছে, বলতে পারছি না। নতুন যে কিউরেটর (হেমিং), খুব ভালো উইকেট দিচ্ছেন অনেক দিন ধরেই। এটাও ভালো উইকেট হবে।’

এমনিতে এই মাঠের উইকেটকে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটিং উইকেটগুলোর মধ্যে রাখা হয়। এবার ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটির উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিং সহায়ক না হলেও বেশ প্রাণবন্ত ছিল, যেখানে সহায়তা মিলেছে সবার জন্যই। টি-২০ সিরিজের ম্যাচগুলি শুরু বেলা ২টায়। উইকেটের আচরণের সম্ভাব্য সমীকরণও তাই একটু ভিন্ন। এই মাঠে এখনো পর্যন্ত দিনের টি-২০ ম্যাচ হয়েছে কেবল পাঁচটি। সবশেষ ম্যাচটিতে গত ডিসেম্বরে আগে ব্যাট করে ১১৭ রানে গুটিয়ে গেছে আয়ারল্যান্ড। তবে ৩৮ বল বাকি রেখে জিতে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছিল, উইকেট ছিল ভালোই।

এর আগের ম্যাচটিতে ২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬৫ রান তুলে বাংলাদেশ জিতেছিল ৯ রানে। ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে অবশ্য ১২৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আগের দুই ম্যাচে আগে ব্যাট করে তারা তুলেছিল ১৯.২ ওভারে ২০৭ ও ১৭ ওভারে ২০২।

অতীতের এই ম্যাচগুলো থেকে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করবেন টম ল্যাথাম। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনের আগে উইকেট দেখার সুযোগ পাননি তিনি। তবে ম্যাচজুড়ে উইকেট একইরকম ভালো থাকবে বলে আশা কিউই অধিনায়কের। ‘উইকেট এখনো দেখিনি। তবে আগে এখানে যে ম্যাচগুলো খেলা হয়েছে এবং কয়েক দিন আগে এখানে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা যতটা সম্ভব ধারণা নিয়েছি। আমার ধারণা, ৪০ ওভারজুড়েই উইকেটটা বেশ ভালো থাকবে এবং সম্ভবত খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। তবে সবচেয়ে বড় কথা এটা টি-২০। কখন কে ঘুরে দাঁড়াবে কার ব্যাট ক্লিক করবে তা আগে থেকে পরিকল্পনা করা যায় না। ম্যাচের দিন ঠিক ওই সময়টাই বলে দিবে কি হবে না হবে। তবে এতটুকু বলতে পারি আমরা আশাবাদী।’

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-২০ সিরিজ সামনে রেখে দুই দলের পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট এবং হেড-টু-হেড রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে লড়াইটা বেশ জমজমাট হওয়ার ইঙ্গিতই দেয়। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দলই এখন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মুখিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, টি-২০ ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে মোট ২০ বার। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড জয় পেয়েছে ১৫টিতে, আর বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র চারটিতে, একটি ম্যাচে ফল হয়নি। অর্থাৎ হেড-টু-হেডে এখনো স্পষ্টভাবেই এগিয়ে কিউইরা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নিজেদের ঘরের মাঠে শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর নজির আছে টাইগারদের, যা আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এই সিরিজে। গড় স্কোরের দিক থেকে নিউজিল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে (প্রায় ১৫০+) এবং বাংলাদেশের গড় স্কোর তুলনামূলক কম হলেও ঘরের কন্ডিশনে তারা বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে। চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক, ফলে হাই-স্কোরিং ম্যাচের সম্ভাবনা। পরিসংখ্যান বলছে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে, কিন্তু বাস্তবতা বলছে বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। চট্টগ্রামের উইকেট, কন্ডিশন ও দর্শকদের সমর্থন সব মিলিয়ে সিরিজটি হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের।