দশমিনায় সেতু আছে সংযোগ সড়ক নেই

Printed Edition

সঞ্জয় ব্যানার্জী দশমিনা (পটুয়াখালী)

প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল উপজেলার সীমানারেখায় বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন-কালাইয়া ইউনিয়নের বগী খালে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। সেতুর নকশা প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হয়। সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শেষে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে নকশার ত্রুটি। সে অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। তারপর দীর্ঘ ছয় বছর পার হলো কোনো গতি হয়নি। স্বস্তির সেতু এখন এগারো গ্রামের মানুষের ভোগান্তির সেতুতে পরিণত হয়েছে। গ্রামের মানুষ ইটের ব্লক দিয়ে সিড়ি বানিয়ে সেতু পার হচ্ছেন। ঝুঁকিতে রয়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও বয়োবৃদ্ধরা।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে দশমিনা ও বাউফল উপজেলার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ২৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ মিটার প্রস্থের আরসিসি গার্ড সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজাার ৫০৬ টাকা। কাজটি পায় পটুয়াখালীর মের্সাস আবুল কালাম আজাদ এন্টার প্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের শেষ দিকে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করেন। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করলে নকশায় ভুল ধরা পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। কাজ বন্ধের প্রায় ছয় বছর পার হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারেনি এলজিইিড।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশবাড়িয়া-কালাইয়ার বগী বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে অকাজো হয়ে দাড়িয়ে আছে সেতুটি। সেতুর দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। মাটি থেকে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার সেতুতে ইটের ব্লক দিয়ে সিড়ি বানিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। এতে অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নারী-পুরুষ, শিশু, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা। দুই উপজেলার কৃষিপণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে প্রতিবন্ধকতা। এতে বাড়ছে পরিবহণ ব্যয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির গাফিলতির কারণে ছয় বছর ধরে দুই উপজেলার ১১ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা (এলজিইডি) কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বছরের পর বছর সেতুর কাজ ঝুলিয়ে রেখেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হাই বলেন, এলজিইডির মনগড়া নকশায় সেতু অনেক উচু হয়ে গেছে। এতে দুই পাড়ে দু’টি হাট-বাজার শেষ হয়ে যাবে। আরেক বাসিন্দা বলেন, হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হয়।

সোহরাব মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে কালাইয়া বাজারে পণ্য নিয়ে যেতে হয়। এতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমাদের অনেক লোকসান হয়। এ বিষয়ে কর্পূরকাঠি ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, মাধ্যমিক, প্রাথমিক ও একটি মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাকো কখনো ইটের ব্লকের সিড়ি দিয়ে চলাচল করে। এতে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়। যে কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে যায়। দশমিনা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বলেন, নতুন করে নকশা করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই কাজ শুরু হবে। দশমিনা ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।