কূটনৈতিক প্রতিবেদক
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, মক্কা সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে আলাদা জায়গা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেয়া অস্বাভাবিক না। এই চুক্তি নিয়ে চলমান ঘটনাপ্রবাহের ওপর আমরা লক্ষ রাখছি।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা প্রত্যেক দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা-দিল্লি কাজ করছে। দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সরকারপ্রধানের সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করবে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। ভারতসহ যেকোনো দেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক হবে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। তার নাগরিকত্ব সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, আমি বাংলাদেশী। যারা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তাদের মধ্যে হয়তো ২০০৭-৮ সালের মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন আমলের জ্বালা ধরেছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দিল্লিতে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, যেকোনো সম্পর্ক কার্যকর হতে হলে তা পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এটা তাদের জন্যও উপকারী হতে হবে, আমাদের জন্যও হতে হবে। আমি বাস্তববাদী, আমি আশা করি না প্রতিবেশীরা কেবল আমাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই কাজ করবে। তারা যেমন আমাদের স্বার্থকে শ্রদ্ধা জানাবে, একইভাবে তাদের স্বার্থকেও আমাদের পর্যাপ্ত ও যৌক্তিকভাবে সম্মান করা উচিত।
দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন : দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন।
হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়াবলি, অনিবাসী বাংলাদেশী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যেকোনো বিষয় দেখভাল করবেন। অন্য দিকে শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা এবং উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্র সম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াবিষয়ক কূটনীতি নিয়ে কাজ করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সেপ্টেম্বর থেকে আগামী এক বছর ব্যস্ত সময় পার করবেন। তবে একই সাথে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও থাকবেন। এই ব্যস্ত সময়ে তাকে সহায়তা দেবার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দু’জন প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শামা ওবায়েদ বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম থেকেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আর হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গত ২১ আগস্ট শপথ নিয়েছেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন।



