নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের পুঁজিবাজারে এক দিকে যেমন মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত পেতে বিলম্বের কারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলো সময়মতো ওপেন-এন্ডে রূপান্তর বা লিকুইডেশন না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ ফেরত পেতে দেরির মুখে পড়ছেন। এতে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ আটকে থাকছে এবং বিনিয়োগকারীদের আর্থিক পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে একটি ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, যা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর হওয়ার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট ইউনিট হোল্ডারদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
একজন ইউনিটহোল্ডার জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে ট্রাস্টির উদ্যোগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তারা এখনো স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না কবে তাদের বিনিয়োগ ফেরত মিলবে। ফলে নতুন করে বিনিয়োগ বা অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা করতেও তারা দ্বিধায় রয়েছেন। অন্য দিকে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র হাতে পাননি। সেটি পাওয়ার পরই দ্রুত রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
এ দিকে আরেকটি গ্রোথ ফান্ডের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ইউনিটহোল্ডারদের বিনিয়োগ ফেরত পেতে ছয় মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সাধারণত কোনো ফান্ড লিকুইডেশন সম্পন্ন হলে বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পান। আর ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের পর নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগা, বিভিন্ন প্রশ্ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, এমনকি জনবল সঙ্কট- সব মিলিয়ে এ ধরনের বিলম্ব ঘটছে। বর্তমানে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন দেয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকাও এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো ফান্ড রূপান্তর বা লিকুইডেশনের আগে সংশ্লিষ্ট নথি, অডিট রিপোর্ট ও সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সময় হিসাব-সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে অতিরিক্ত সময় লাগে।
তবে এই দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ফান্ড রূপান্তর, লিকুইডেশন ও একীভূতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, নোটিশ দেয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইউনিট হোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ সভা আয়োজন করতে হবে। সেখানে উপস্থিত সদস্যদের তিন-চতুর্থাংশের সম্মতিতে ফান্ড লিকুইডেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা ও গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর সাত দিনের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন বিধিমালায় ফান্ড একীভূতকরণের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে, যা ছোট আকারের একাধিক ফান্ডকে একত্রিত করে পরিচালন ব্যয় কমাতে এবং সম্পদের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ দিকে শেয়ারবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত এমকে ফুটওয়্যার পিএলসি চীনের জিনজিয়াং আকিয়া স্পোর্টস কোম্পানি লিমিটেডের সাথে একটি বড় রফতানি চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, একই দিনে তারা চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে উৎপাদন ও সরবরাহ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ন্যূনতম ১০ লাখ জোড়া জুতা সরবরাহের অর্ডার দেবে জিনজিয়াং আকিয়া স্পোর্টস, যা পারস্পরিকভাবে নির্ধারিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী তৈরি হবে।
প্রতি বছর নিয়মিত ক্রয়াদেশের মাধ্যমে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর ফলে বছরে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রফতানি আয় হতে পারে বলে আশা করছে কোম্পানিটি।
চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ক্রেতার জন্য আলাদা উৎপাদন সক্ষমতা নির্ধারণ করবে এমকে ফুটওয়্যার। চুক্তিতে পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ, উৎপাদন সময়সূচি, অর্থপ্রদানের শর্তসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তাদের রফতানি কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
চুক্তির ঘোষণার পর এসএমই প্ল্যাটফর্মে এমকে ফুটওয়্যারের শেয়ারদর ২ শতাংশ বেড়ে ৮৫ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
এ দিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির আর্থিক পারফরম্যান্সও উন্নতির ধারায় রয়েছে। এই সময়ে তাদের আয় দাঁড়িয়েছে ৭৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং নিট মুনাফা ১১৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
তবে মুনাফা বৃদ্ধির একটি বড় অংশ এসেছে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে। আগে কম দামে কেনা লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ার বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আয় করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য স্পন্সর ও পরিচালক ছাড়া অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের ১২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল এমকে ফুটওয়্যার।



