ঢাকা-৬ আসনে খোকার উত্তরসূরি ইশরাক

মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত মডেল এলাকা গড়ার অঙ্গীকার

Printed Edition

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দি¦তা করছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও ঢাকা-৬ আসনের বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি। সংসদীয় আসনটির সার্বিক বিষয় নিয়ে নয়া দিগন্তের আলাপ হয় ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সাথে। তিনি নয়া দিগন্তকে এলাকাবাসীর কাছে তার দেয়া নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা, যানজট, পরিবেশ দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়ে প্রতিশ্রুতির কথাও জানান বিএনপির এই প্রার্থী। দলের ৩১ দফার আলোকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নিয়ে যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে শিা, স্বাস্থ্য ও বেকারত্ব দূরীকরণের বিষয়গুলো নিয়েও সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো :

নয়া দিগন্ত : আপনার আসনে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী দেখছেন?

ইশরাক হোসেন : আমার সংসদীয় আসনের সব থেকে বড় সমস্য হলো জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণের ফলে খুব অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হলে এই সমস্য সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবো। এ ছাড়াও এই এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আধুনিকায়ন করতে কাজ করব।

নয়া দিগন্ত : আপনার এলাকায় যানযট ও সড়ক অবকাঠামো নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

ইশরাক হোসেন : আমার সংসদীয় এলাকার যেসব স্থানে যানযটের সৃষ্টি হয়, আমি নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে বসে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করব। আর যেন অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরি না হয় সেজন্য সব পক্ষকে সাথে নিয়ে কাজ করব।

নয়া দিগন্ত : মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে আপনার পরিকল্পনা কী?

ইশরাক হোসেন : আমি নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে পুরো এলাকাকে অপরাধমুক্ত করা হবে। ঢাকা-৬ আসনে কোনো অপরাধীর স্থান হবে না। এই এলাকাটি হবে অপরাধমুক্ত একটি মডেল এলাকা। এই এলাকার যুবসমাজ হবে দেশের দক্ষ জনশক্তি।

নয়া দিগন্ত : এলাকা দূষণমুক্ত করতে কী পরিকল্পনা রয়েছে আপনার?

ইশরাক হোসেন : এলাকার পরিবেশ দূষণ রোধে পরিকল্পিত বৃক্ষ রোপণ ও তা পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিয়ে তাদের সহযোগিতায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব এলাকা বিনির্মাণে জোর দেয়া হবে।

নয়া দিগন্ত : যুবসমাজের মানসিক উন্নয়নের জন্য ক্রীড়া ক্ষেত্রে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?

ইশরাক হোসেন : আমার বাবা সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকা ক্রীড়াবান্ধব মানুষ ছিলেন। আমি ব্রাদার্স কাবের সাথে কাজ করছি। সমাজের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে তাদের খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়ার বিকল্প নেই। তাই এ বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব।

নয়া দিগন্ত : এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় কী ভূমিকা রাখতে চান?

ইশরাক হোসেন : শিক্ষাবান্ধব এলাকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যেসব সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব সেদিকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। এ ছাড়াও শিক্ষাব্যবস্থার ওপর অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নয়া দিগন্ত : আপনার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

ইশরাক হোসেন : দীর্ঘ সময় এ এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে আমার বাবা কাজ করেছেন। আমার বাবার ওপর এই এলাকার মানুষ আমৃত্যু আস্থা রেখেছেন। আমিও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এলাকার জনগণকে ছেড়ে যাইনি। এই এলাকা ও এলাকার জনগণই আমার আস্থার জায়গা। তাদের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। আমার বিশ্বাস এলাকার মানুষ বিপুল ভোটে আমাকে বিজয়ী করবেন। আশা করি আমি তাদের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।

নয়া দিগন্ত : এলাকার ভোটারদের প্রতি আপনার কী ধরনের আহ্বান থাকবে?

ইশরাক হোসেন : আমি দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা-৬ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছি। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। একাধিকবার কারাবরণ করেছি। জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি এ অঞ্চলের মানুষের কাছে নতুন বার্তা নিয়ে এসেছি। নতুন স্বপ্নের ঢাকা-৬ গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছি। এই এলাকাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত বসবাসের নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আশা করি ভোটাররা আমাকে সে সুযোগ দেবেন।

পারিবারিক পরিচয় : ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক। তিনি ২০২০ সালের ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ভিত্তিতে তাকে ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে।

শিক্ষা ও কর্মজীবন : ইশরাক হোসেন ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোর রাজধানী গোপীবাগে কেটেছে। তিনি ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি উচ্চশিার জন্য যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১১ সালে পড়াশোনা শেষ করে তিনি কিছু সময় যুক্তরাজ্যে থেকে বিভিন্ন স্থানীয় মোটরগাড়ি সংস্থায় কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।